বাজার স্থিতিশীল রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে- আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুদ রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।’
নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত চার থেকে পাঁচ মাসে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জন, রফতানি ঝুড়ি (এক্সপোর্ট বাস্কেট) সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
গতকাল সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারণা ও ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পাশের দেশ বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সমতা অর্জন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে সিলেটে দেশীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে কিছু বিশেষ নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে।
আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রয়াস নিয়ে আগামী পাঁচ বছর কাজ করব।
মন্ত্রী হয়ে প্রথমবারের মতো শুক্রবার সকালে নিজ এলাকা ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।