দিয়াগো গার্সিয়া নিয়ে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন
Printed Edition
নাইনটিন ফোরটি ফাইভ
ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দিয়াগো গার্সিয়া নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, দিয়াগো গার্সিয়ার সার্বভৌমত্ব মরিশাসের হাতে তুলে দিয়ে ১০০ বছরের ইজারা নেয়া হবে স্টারমারের জন্য একটি বিরাট ভুল। ট্রাম্পের মতে, এই দ্বীপের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন ইরানের সাথে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, দেশগুলোর েেত্র ইজারা কোনো ভালো সমাধান নয়। তিনি যুক্তি দেখান, মরিশাসের মতো একটি দেশের দাবি মেনে নিয়ে সার্বভৌমত্ব ত্যাগ করা ব্রিটেনের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দিয়াগো গার্সিয়া এবং যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।
কিয়ার স্টারমার ২০২৪ সালে মতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, সার্বভৌমত্ব মরিশাসের থাকলেও দিয়াগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটিটি দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তবে ট্রাম্প এই ইজারা চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে একে অত্যন্ত দুর্বল সিদ্ধান্ত এবং বড় বোকামি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
দিয়াগো গার্সিয়ার এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল যখন লন্ডনের রাজনীতিতে পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড় চলছে। ম্যান্ডেলসনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নিজ দলেই প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই আক্রমণ স্টারমার সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়া স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই দূরপাল্লার বোমারু বিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৫ শ’ সামরিক কর্মী এবং সমসংখ্যক ঠিকাদার অবস্থান করছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, বেইজিংঘেঁষা মরিশাসকে সার্বভৌমত্ব দেয়া মানে এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়া, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।