রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পণ্য রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।
গতকাল রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রফতানি আয় ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই অর্থবছরে রফতানিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধীরগতির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও প্রকৃত আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি থেকে গেছে।
খাত সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরী পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য রফতানিতেও পড়েছে।
তবে নতুন অর্থবছরে রফতানি পুনরুদ্ধারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইপিবি। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রফতানিকারকদের জন্য নীতিগত সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রফতানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি, প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমে এলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় আবারো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে।