হোসেনপুরে এলপিজি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি ৩ হাজার টাকায়
Printed Edition
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে খুচরা বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিন পৌর এলাকা ও উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে এলপিজি গ্যাসের মজুদ নেই। কোথাও দু-একটি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও দাম রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত। ক্রেতাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) জানুয়ারি মাসের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা। বাস্তবে তা দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সঙ্কট, জাহাজ সঙ্কট এবং আমদানি হ্রাসের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে চড়া দামে গ্যাস কিনছেন। অনেকে আবার লাকড়ির চুলায় রান্নায় ফিরছেন। এক ভুক্তভোগী গৃহিণী বলেন, ‘এক হাজার ২০০ টাকার গ্যাস তিন হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
এদিকে খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ সঙ্কটের কথা বললেও সাধারণ মানুষের দাবি, ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও তা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত বাজার তদারকি বাড়িয়ে এলপিজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।