এ বছর আমদানিতে বাড়তি ব্যয় হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, কয়লা ও এলএনজির ক্রমবর্ধমান দাম বাড়ার কারণে চলতি বছর জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের খরচ বাড়তে পারে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যা ৩৫ হাজার কোটি টাকা। (এক ডলার=১২৫ টাকা হিসাবে)।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্স (জেডসিএ) গতকাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই বর্ধিত ব্যয় টাকা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের খরচের উপর চাপ বাড়াতে পারে। কারণ গ্যাস-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বিঘেœর ঝুঁকিতে রয়েছে।

জেডসিএ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াবে, কারণ বর্তমান সরবরাহ সঙ্কট আমদানিকৃত গ্যাসের উপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা আরো গভীর করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

জেডসিএর অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তা দিয়ে প্রায় ৮ গিগাওয়াট রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব, যা বাংলাদেশের বর্তমান ৩২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৫% বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। চলতি সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩% কম ছিল।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় জুলাই ও আগস্ট মাসে আমদানিতে সবচেয়ে বড় পতন ঘটে, যখন আমদানি প্রায় ৮৩% কমে ০.৬৩ মিলিয়ন টন থেকে ০.১১ মিলিয়ন টনে নেমে আসে। জেডসিএ বলছে, আমদানি কমার অর্থ এই নয় যে খরচও কমেছে। যদি বছরের বাকি সময় তেল, গ্যাস এবং কয়লার দাম জানুয়ারি-আগস্ট মাসের গড় পর্যায়ে থাকে, তাহলে জেডসিএর অনুমান অনুযায়ী বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির বিল ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রায় ৬৪% বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ১১ আগস্ট, বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩,৫৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা চাহিদার প্রায় ২০%।

এই সরবরাহ সঙ্কট ইতোমধ্যেই পরিবার এবং প্রধান শিল্পগুলোকে প্রভাবিত করছে। কিছু গ্রামীণ এলাকায় দিনে আট থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে বলে জানা গেছে।