মাদারীপুরে বাস চাপায় প্রাণ গেল ৭ জনের

অন্যান্য স্থানে নিহত আরো ৪

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মাদারীপুরে বাস চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। এ ছাড়া পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের অন্যান্য স্থানে নিহত হয়েছেন আরো চারজন।

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরে সার্বিক পরিবহনের একটি বাস চাপায় বাসের হেলপার ও ইজিবাইকের যাত্রীসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের মস্তফাপুর মিল গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের মধ্যে পান্নু মুন্সী (৫০) নামে সার্বিক পরিবহনের এক হেলপার কুনিয়া দক্ষিণপাড়ার জসিমের ছেলে সাগর (২৬) ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের শাহ আলমের ছেলে রুমানের (২৫) পরিচয় পাওয়া গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিল সার্বিক পরিবহনের একটি বাস। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মিল গেট এলাকায় এলে একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইকে চাপা দেয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বাসটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয় এবং হাসপাতালে এলে আরো তিনজন মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট নগরীর তালতলায় মধ্যরাতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা ইমন দাস (২২) এবং জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দাসের ছেলে দীপ্ত দাস (২৩)। দীপ্ত দাস সিলেটের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তারা সম্পর্কে মামাতো ও ফুফাতো ভাই। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তালতলা স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পিকআপভ্যানের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: সিফাত (৩) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন। হতাহতরা সবাই অটোরিকশার আরোহী। শনিবার রাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের আনন্দ পুকুর পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিফাত উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মো: রাসেলের ছেলে। জানা যায়, জেলা শহর মাইজদী থেকে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা উপজেলার বাঁধের হাটের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে বিনোদপুর ইউনিয়নের আনন্দ পুকুর পাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের সাথে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু সিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, রোববার ভোরে শৈলকুপার ঝাউদিয়া প্রাইমারি স্কুলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় বিজুলিয়া গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী মন্নু মোল্লা (মন্নু পাগল) মারা গেছে। নিহত ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামে। নিহতের ভাই দলিল লেখক নান্নু মোল্লা জানান আমার ছোট ভাই মন্নু মানসিক প্রতিবন্ধী। সে সব সময় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতো রোববার সকালে সংবাদ পেলাম আমার ভাইয়ের লাশ ঝাউদিয়া প্রাইমারি স্কুলের পাশে পড়ে আছে। বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের নিচে পড়ে সে মারা গেছে বলে আমার ধারণা।