আগে ক্যাম্প শুরু করে বিপাকে সিটি ক্লাব
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
পূর্ণ পেশাদারি আবহে যাওয়ার চেষ্টা বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নবাগত দল সিটি ক্লাবের। অন্য ক্লাবগুলো যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন ২ আগস্ট অনুশীলন শুরু করেছে মিরপুরের এই ক্লাব। তখন আশা ছিল ২১ আগস্ট এবারের ফুটবল মৌসুম শুরু হলে ভালোভাবে মাঠে নামতে পারবে তারা। আগস্টেই যে লিগ মাঠে গড়ানোর কথা ছিল। এখন সেই লিগ কবে শুরু হবে অনিশ্চিত। যদিও বাফুফে ১৮ সেপ্টেম্বর লিগ শুরুর তারিখ দিয়ে রেখেছে। এই তারিখে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শুরু করা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে। কারণ কোনো কোনো ক্লাব মাত্রই অনুশীলন করেছে। কোনোটি এখনও অপেক্ষায় আছে। ক্লাবগুলোর এই দ্বৈত অবস্থানে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। আর যে তিন ক্লাব আগে ক্যাম্প শুরু করেছে এদের মধ্যে বিপাকে পড়েছে সিটি ক্লাব। আগেভাগে ক্যাম্প শুরু করে এখন সেই ক্যাম্প অব্যাহত রাখার বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সেই সাথে বিদেশী ফুটবলারদেরও বাড়তি সময়ের বেতন দিতে হবে।
এবার সিটি ক্লাবের কোচের দায়িত্বে আবদুল কাইয়ুম সেন্টু। সবশেষ লিগে তিনি প্রথমে মোহামেডানের সহকারী কোচ থাকলেও পরে হেড কোচ হন। তার অধীনে সাদা কালো শিবির শেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতে জিতেছিল। হেরেছিল বসুন্ধরা কিংসের কাছে। ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচের লক্ষ্য সিটি ক্লাবকে লিগে সেরা চার-পাঁচে রাখা এবং ফেডারেশন কাপে সেরা চারে রাখা। একেবারেই নতুন দল সিটি ক্লাব। রয়েছে নানান সমীকরণ। তাই এখনই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দিতে পারছেন না ২০০৩ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের এই সদস্য।
তবে এখনো লিগ শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিরক্ত সেন্টু। জানান, ‘আমরা আসলে এখনো জানি না আমাদের পরবর্তী গন্তব্যটা কোথায়। ফুটবল ফেডারেশন যেভাবে শিডিউলটা দিয়েছিল সেটাকে সম্মান জানিয়ে সেভাবেই আমরা অনুশীলন শুরু করি। অবশ্যই বলব আমাদের মতো ছোট ক্লাবের জন্য এটা একটা বড় বোঝা এভাবে ক্যাম্প চালু রাখা।’ যোগ করেন, আমাদের ক্লাব সেক্রেটারি প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছেন ভালো কিছু করার। তবে শুরুতেই যদি আমাদের এই অনিয়মের মুখে পড়তে হয় তাহলে আমাদের মতো ছোট ক্লাবের জন্য তা বড়ই কঠিন পরিস্থিতি। এরপরও সেক্রেটারি বলেছেন ক্যাম্প চালিয়ে যেতে। তাই অনুশীলনের মধ্যেই আছেন ফুটবলাররা।
লিগ পরে শুরু হবে এই বলেতো আর হুট করে ফুটবলারদের অনুশীলন বন্ধ করা যায় না। এভাবে প্র্যাকটিস বন্ধ করলে আবার প্রি-সিজন প্র্যাকটিস শুরু করতে হয়। সেন্টুর মতে, আমরা আমাদের প্রি-সিজন প্র্যাকটিস শেষ করে এখন ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি। ইতোমধ্যে পুলিশ ও আর্মির সাথে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। আগামীকাল আমাদের পরের ম্যাচ জাতীয় দলের বিপক্ষে। এখন লিগ নিয়ে অনিশ্চতায় যদি ক্যাম্প বন্ধ করতে হয় তাহলে ফের এই ফুটবলারদের প্রি-সিজন ট্রেনিং করতে হয়। এটা ফুটবলারদের জন্য কষ্টকর আর ক্লাবের জন্যও বোঝা। কারণ প্রি-সিজনে ফুটবলারদের খাওয়া-দাওয়া থেকে অনেক কিছুতেই একটা সিস্টেম থাকে।
এই সিটি ক্লাবের সেক্রেটারি মঈন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভাই। আমিনুলও এই ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত। আমিনুলের মতো মঈনও সাবেক ফুটবলার। ফলে ক্লাবটি নিয়মের মধ্যেই এগোচ্ছে। ফুটবলারদের যাতায়াতের জন্য নতুন বাস কেনা হয়েছে। সিটি ক্লাব মাঠের পাশেই ফুটবলারদের থাকার ব্যবস্থা। আর দল অনুশীলন করছে দিয়াবাড়ী মাঠে। তবে লিগ যদি যথাসময়ে শুরু না হয় কয়েক ক্লাবের জন্য তাহলে আগে অনুশীলন করা দলকে বিপাকে পড়তেই হয়। সেন্টু জানান, যদি ১৮ সেপ্টেম্বর লিগ শুরু হয় তাহলে অবশ্যই আমরা বাড়তি সুবিধা পাবো আগে অনুশীলনের কারণে। কিন্তু লিগ আরো পরে শুরু হলে অন্য ক্লাবগুলোও ভালোভাবে নিজেদের তৈরি করতে পারবে।’ সাবেক এই মিডফিল্ডারের মতে, এবারের লিগে পাঁচটি দলের মধ্যে শিরোপার লড়াই হবে। এই দলগুলো হলো, বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী, মোহামেডান, ফর্টিস এফসি ও পুলিশ। আর এদের সাথে লড়াই করেই সেরা ৫ এ থাকতে চায় সিটি ক্লাব।
ক্লাবে অবশ্য সব খেলোয়াড় এখনো যোগ দেয়নি অনুশীলনে। অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাথে উজবেকিস্তানে অবস্থান করছেন দুই ফুটবলার। সেনাবাহিনীতে চাকরি করা পিয়াস নোভা ও মিজান এখনো ছুটি পায়নি। দুই বিদেশী শায়েক দোস্ত এবং ওকাফোর এখনও আসেননি। দুই-এক দিনের মধ্যেই তারা আসবেন বলে জানিয়েছেন কোচ। দলটির পোস্টের নিচে মোহামেডান ছেড়ে আসা সাকিব আল হাসান ও ব্রাদার্স থেকে আসা ইসহাক আকন্দ। মিডফিল্ডে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা রফিক। আর ফরোয়ার্ড লাইনে জাতীয় দলে খেলা পিয়াস আহমেদ নোভার সাথে দুই আফ্রিকান সলোমন কিংস, ওকাফোর এবং পাকিস্তানি শায়েক দোস্ত। সেন্টুর মতে, আমাদের ফরোয়ার্ড লাইন ভালো। ডিফেন্সও বেশ উন্নতি করছে। মিডফিল্ডে আছে জাতীয় দলের রফিক। এদের নিয়েই এবারের লিগে আমরা লিগে আমাদের সেক্রেটারির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করতে চাই।