আমিনবাজারে পুলিশের এসবি’র কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা
Printed Edition
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় একটি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার রাখাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক কর্মকর্তাকে শনিবার রাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ কর্মকর্র্তার ছোট ছেলে আরিফুর রহমানকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। নিহত এসবি কর্মকর্তার নাম মো: আলতাফ হোসেন (৫৮)। তিনি ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের মরহুম জুরাইন আলী শেখের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এজহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দেশির মদিনা সিটি এলাকায় আবুল কালামের অটোগ্যারেজের সামনে অজ্ঞাতনামা এক অটোচালক সংযোগ সড়কে অটো রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাইভেট কার মালিক কাম চালক জহুরুল (৩২)-এর সাথে অটোগ্যারেজ মালিক আবুল কালামের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে প্রাইভেট কার মালিক গাড়ি থেকে নেমে অটোগ্যারেজ মালিক আবুল কালামকে থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসআই) উপ-পরিদর্শক আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে প্রাইভেট কারের মালিক জহুরুলসহ তার সহযোগীরা আলতাফের ওপর চওড়া হয়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ জীবন বাঁচানোর জন্য তার ছেলে শরীফুলের মালিকানাধীন এড্রইট ফ্যাশনের দিকে যায়। এ সময় প্রাইভেট কারে থাকা জহুরুল, মজিবর, কাশেম, আলমগীরসহ তার সহযোগীরা আলতাফের পেছনে দৌড়ে যায়। তারা দেশীয় অস্ত্র, পাইপ, ধারালো চাকু, হাতুড়ি, বাঁশের ও কাঠের লাঠি নিয়ে এড্রইট ফ্যাশনের ভেতরে ঢুকে আলতাফকে মারতে থাকলে মারাত্মক জখম হন তিনি। চিৎকার শুনে ছোট ছেলে আরিফুর রহমান এগিয়ে এলে তার ওপরও চড়াও হয় এবং কারখানার মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে শনিবার রাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার ছেলে আরিফুর রহমান গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর পুলিশ ভোরে মামলার প্রধান আসামি জহুরুলকে বড়দেশি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। জহুরুল স্থানীয় মুসলিমের ছেলে। এ ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোছা: শিউলি পারভীন বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল আলম বলেন, মামলার প্রধান আসামি জহুরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিকে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।