স্বাগতিক হয়েও নিজ মাঠে খেলতে পারছে না কানাডা

Printed Edition

বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ নিজ মাঠে খেলবে এটাই তো স্বাভাবিক। সেই নিয়মই তো চলে আসছিল ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে। একটি দেশ নিজ দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করে নিজ মাঠে খেলার জন্য। যেখানে পরিচিত পরিবেশ, নিজস্ব দর্শকের সমর্থন নিয়ে ভালো খেলা যায়। অথচ এবারের তিন দেশের বিশ্বকাপে ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ স্বাগতিক হয়েও নক আাউট পর্বের ম্যাচ নিজ দেশে খেলতে পারছে না কানাডা। সেরা ৩২-এর খেলা তাদের লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে খেলতে হয়েছে। এখন সেরা ১৬-এর খেলা বা রাউন্ড অব সিক্সটিনের খেলাও খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে।

দোষটা আসলে কানাডারই। কারণ তারা নিজের গ্রুপের সেরা হতে পারেনি। যা মেক্সিকো পেরেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সফল হয়েছে। কিন্তু পারেনি কানাডা। তারা গ্রুপের শেষ ম্যাচে হেরে যায় সুইজারল্যান্ডের কাছে। এতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ড খেলছে কানাডার মাঠে। অন্য দিকে কানাডাকে অতিথি পাখির মতো মাঠে নামতে হচ্ছে অন্যের মাঠে।

টুর্নামেন্টের যে ফরমেট এবং ফিকশ্চার হয়েছে, তাতে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার কারণেই নিজ দেশে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছে কানাডা। এর প্রভাবও পড়েছে টিকিট বিক্রিতে। ভ্যাঙ্কুভারে খেলার কথা ছিল কানাডার। কিন্তু তারা গ্রুপ সেরা না হওয়ায় খেলতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। এই মিশনে প্রথম ম্যাচে সফল হয়েছে কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেরা ৩২-এর ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়েছে কানাডা। এখন মরক্কোর সাথে তাদের খেলতে হবে হিউস্টনে। কানাডা না থাকায় তাদের মাঠে হওয়া অন্য ম্যাচের টিকিটের দামে প্রভাব পড়েছে। যেহেতু কানাডার খেলা নেই নিজ দেশে তাই খেলার টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হয়নি।

আসলে তিন দেশ মিলে বিশ্বকাপ হওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মতো কানাডা যদি গ্রুপ সেরা হতো তাহলে নিজ দেশেই নক আউটের খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেত। যে সুযোগটা পুরো দমে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

অবশ্য কানাডা নিজ দেশে খেলার ফলেই বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্টের দেখা পেয়েছে। প্রথম জয়ের স্বাদও পেয়েছে। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রমাণ করেছে, কানাডা শুধু নিজ মাঠেই জিততে পারে না, অন্যের মাঠেও জয়ের সামর্থ্য রাখে।

প্রথমবারের মতো যৌথভাবে বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০০২ সালে। সেবার কিন্তু জাপান বা কোরিয়াকে অন্য কোনো দেশে গিয়ে খেলতে হয়নি। কিন্তু কানাডা এবার স্বাগতিক হয়েও অন্যের মাঠে খেলে নতুন রেকর্ড করেছে। কানাডা এসে এখানকার লোকদের মধ্যেও নিজ মাঠে খেলতে পারছে না তাদের দেশ, এ নিয়ে হতাশা দেখা গেছে।

কানাডাবাসী গতকাল স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। প্রতিটি বাড়িতে শোভা পাচ্ছিল জাতীয় পতাকা। প্রাইভেট কারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছে। রাতে আতশবাজি হয়েছে। এই উৎসবের সাথে যদি কানাডা দল পরের ম্যচেও জিততে পারে তাহলে এতে পূর্ণতা আসবে।