সাপ্লাই চেইন বিলম্বের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাপ্লাই চেইন বিলম্বের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ট্র্যাটেজিক মিটিংয়ে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
বন্দরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই সভায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দ্রুততর করতে চট্টগ্রাম বন্দর এবং কাস্টম হাউজ তিনটি শিফটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা, খেজুর, ফলমূল, মসলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও ডেলিভারি নিশ্চিত করা, বন্দরে আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার ঢাকামুখী কনটেইনার দ্রুত পরিবহনের জন্য রেলওয়ের মাধ্যমে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু এবং অপারেশনাল কার্যক্রম ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং রিয়েল-টাইমে মনিটর করার জন্য দু’টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে । সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। সভায় ঢাকার আইসিডিমুখী চট্টগ্রাম বন্দরে জমে যাওয়া কনটেইনার দ্রুত প্রেরণ এবং কনটেইনার অপারেশন সম্পর্কিত বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমদানি-রফতানিকারকদের সাথে একটি জরুরি সভা করার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।
চট্টগ্রামে বন্দরের গেটে কাস্টমসের বসানো স্ক্যানারগুলোর মধ্যে চার-পাঁচটি নষ্ট থাকায় বন্দর অভ্যন্তরে স্ক্যানিংয়ের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘসারি এবং এ কারণে স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম বহাল রাখা সম্পর্কিত বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বন্দরের অপারেশনাল, লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল সমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরের প্রতিটি ইকুইপমেন্ট সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে, গেটগুলোতে কনটেইনার জট কমাতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে স্ক্যানারগুলোর দ্রুত মেরামত ও আধুনিকায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাফা ও বিকডাসহ অন্যান্য সংস্থা বন্দরের ২৪/৭ শিডিউলের সাথে তাল মিলিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সভায় বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো: সামীমুজ্জামান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কাস্টমস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটর্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন, বিকডা, আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।