সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ দেশ তৈরি করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার একটি নিরাপদ বাংলাদেশ তৈরি করতে চায় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপশক্তি নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমান কালের মূল্যবোধ। বর্তমান সরকারও এমন এক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নির্বিঘেœ নিরাপদে বসবাস করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
নজরুল বর্ষ উদযাপনের বছরব্যাপী কর্মসূচির অনুষ্ঠানমালা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সঙ্গীতের আসর, প্রকাশনা কার্যক্রম, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সৃষ্টিকে জনপরিসরে আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমেও তার সাহিত্য ও সঙ্গীত সংরক্ষণ এবং তার সাহিত্যকর্ম আন্তর্জাতিক পরিসরে আরো বিস্তৃতভাবে প্রচারের সুযোগও তৈরি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ তথা নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত, ‘নজরুলবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে দেশের সব জেলা উপজেলা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বছরজুড়ে প্রতিটি অনুষ্ঠান সফলভাবে পালন করা জরুরি। ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাংলাভাষাভাষী জনগোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক গবেষকসমাজ তথা বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে পড়বে নজরুলের সাহিত্যকর্ম। নজরুলের বিশ্বজনীন মানবিক বার্তাও তার সাহিত্য ও সঙ্গীতের বহুভাষিক অনুবাদ এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে ছড়িয়ে পড়বে।
কবি নজরুলকে বাংলাদেশের ‘মন’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নজরুল বিশেষজ্ঞ তারা কবিকে নানা বিশেষণে ভূষিত করে থাকেন। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমন বলেন, গাহি সাম্যের গান/সেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান/সেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান।
জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম ও জীবনবোধ ‘চার দেয়ালে আবদ্ধ না রেখে মানুষের ঘরে’ পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাহীন ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রভাব আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে একদিকে যেমন জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে, অপরদিকে মূল্যবোধ হারিয়ে বিপথগামী হওয়ার পথও উন্মুক্ত।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জুম প্ল্যাটফর্মে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া কবি আবদুল হাই শিকদার, কবি হাসান হাফিজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফ উদ্দিন উজ্জল, হেলাল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন খণ্ডে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, গবেষক ও লেখক কালাম ফয়েজী রচিত গ্রন্থটিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।