গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে : মামুনুল হক

Printed Edition

বগুড়া অফিস

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, দেশের ৩১টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি; কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারি দল বলছে, মন থেকে আমরা জুলাই সনদ চাইনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অনুষ্ঠিত হয় সে জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। এমন বক্তব্য শহীদ জিয়ার দলের কাছে জাতি আশা করে না। এটা জনগণের সাথে তামাশা। ৭০ ভাগ ভোটার গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তালবাহানা করে পার পাওয়া যাবে না। এ রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। সংবিধান সংশোধন নয়; সংস্কার করতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমআ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ খোকন পার্কে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কল্যাণকামী। তার ভুল হলে সেটি ধরিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব মনে করি। তিনি বলেন, একই দিনে একই তফসিলে অনুষ্ঠিত দু’টি নির্বাচনের একটি অবৈধ হলে আরেকটি বৈধ হয় না। তিনি বলেন, সরকারের সাথে আমাদের বিরোধ তৈরি হয়েছে সংবিধান সংশোধন এবং সংস্কার নিয়ে। আমরা সংবিধানের সংস্কার চাই। কারণ অতীতে ১৭ বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। এক সরকারের সংশোধন আরেক সরকার পরিবর্তন করতে পারে; কিন্তু সংস্কার হলে কেউ সেটি পরিবর্তন করতে পারবে না। সে জন্যই আমরা সংবিধানের সংস্কার চাই। তিনি বলেন, এ দেশের আলেম ওলামা জনগণের প্রতিটি আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে। সবশেষ চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও আলেম ওলামা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আলেম সমাজকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদেরকে কোনো আলেমের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বর্তমানে আলেম সমাজের ঐক্যের মহান সুযোগ তৈরি হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। ইসলামপন্থীদের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। কোনো ইসলামপন্থী নেতা আমাদের গালি দিলেও তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করবেন না।

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা মনে করছেন ধাক্কা দিলেই আমরা নড়ে যাবো, তাদের প্রতি স্পষ্ট বক্তব্য হলো বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা তাড়াহুড়া করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে বিজয়ী হয়েই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া মহানগরী সভাপতি আব্দুল মাজেদ আনসারীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরী সেক্রেটারি এ এস এম আব্দুল মালেক, এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসানাত জালালী, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আহাদ, খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ এহসানুল হক, সেক্রেটারি মুফতি মামুন রাহমানী, জেলা নেতা ইউসুফ নিয়ামতপুরী, মাওলানা শাহাদত হোসেন, মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে মামুনুল হক জামিল মাদরাসায় যান এবং এক দিন আগে তাকে কুলাঙ্গার বলে গালি দেয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হক আজাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমআর খুতবা দেন এবং নামাজে ইমামতি করেন।