সিইসির সাথে বৈঠক শেষে এবি পার্টি
প্রশাসনে নিরপেক্ষতার অভাব, ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণ-আন্দোলন
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
নির্বাচন পরিচালনায় মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থানের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয় এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে দেশ আরেকটি গণ-আন্দোলনের মুখে পড়তে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ কথা বলেন। সিইসির কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে দলটি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তারা একেক জেলায় একেক রকম মানদণ্ড ব্যবহার করছেন। ফেনী-২ আসনের উদাহরণ টেনে বলা হয়, সেখানে সামান্য কারণে প্রার্থীদের জরিমানা করা হলেও ঢাকা সিটিসহ দেশের অনেক জায়গায় পোস্টার-ব্যানার সরানোর নির্দেশনা মোটেই তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সেখানে প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব।
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বরিশালে ব্যারিস্টার ফুয়াদ এবং ফেনীর ছাগলনাইয়ায় প্রচারণার সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরার বিষয়ে ইসি এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে, যা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায়।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক এলাকায় ভোটাররা সমর্থন দিলেও জনসম্মুখে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে কারচুপির ‘প্রাচীন ধারা’ বজায় রাখতে কিছু প্রার্থী ‘ডামি প্রার্থী’ ব্যবহার করছেন। ইসি সচিব এসব বিষয় নোট করেছেন এবং স্থানীয় কমিটিকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ফেনীর পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ৪ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আধুনিক অস্ত্র এবং ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চললেও কার্যকর কোনো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সেখানে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছি আমরা।
মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলার জন্য বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করে তিনি জানান, বিএনপি ও জামায়াত বর্তমানে জনপ্রিয় দল। আমরা তাদের সাথে কথা বলছি যাতে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। কোনো কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগত জয়ের জন্য সারা দেশের পরিবেশ নষ্ট করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে পালিত হচ্ছে না, যা দুঃখজনক।
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনের আমেজ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি আছে। যদি নির্বাচনকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করা হয় এবং ইসি ও প্রশাসন নির্বিকার থাকে, তবে দেশ আরেকটি গণ-আন্দোলনের দিকে যাবে এটা আমাদের আগাম প্রেডিকশন।