মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণ সরকারকে মানবে না : অধ্যাপক মুজিব

Printed Edition
back-4
রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে গণবিরোধী সরকার গঠিত হয়েছে। দেশে রক্ত প্রবাহিত না করে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলকে কাজ করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণ সরকারকে মানবে না। ফলে আবারো মানুষ বিদ্রোহের পথ বেছে নেবে। জনগণের কথা মেনে নেয়ার নামই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ-পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে স্বাধীন দেশের বিগত সরকারে যারাই ছিল কেউ জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। আগামীতেও কোনো সরকার জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। জামায়াতে ইসলামী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।

গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সব আন্দোলন সংগ্রাম ছিল শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের বিরুদ্ধে। জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং রাজপথে নেমে আসে। জনগণ রাজপথে নেমে এলে কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি আর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব জেহাদের (আন্দোলন-সংগ্রামের) বিকৃত ও খণ্ডিত ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। যেই ইতিহাস প্রকৃত এবং সত্য তরুণ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানাতে হবে। সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিধান থাকলেও কেন ব্যবহার হচ্ছে না প্রয়োজনে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সর্বক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলা ভাষার ব্যবহার হতে হবে। তবেই ভাষাসৈনিকদের আত্মদান ও ত্যাগের মূল্যায়ন হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্র সুসংহত করতে হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাদ দিয়ে যারা গণতন্ত্র সুসংহতের কথা বলে তারা মূলত স্বৈরতন্ত্র কায়েমের পথে হাঁটছে। যেই গণতন্ত্র রক্তপাত ঝরায়, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয় সেই গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ চায় না। মানুষের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করার গণতন্ত্র মানুষ চায়। একুশের চেতনা মানে দুর্নীতি নয়, চাঁদাবাজি নয়, স্বৈরতন্ত্র নয়। একুশের চেতনা থেকে জুলাই চেতনা প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। যদি জুলাই চেতনা সরকার বিনষ্টের চেষ্টা করে তবে আরেকটা জুলাই হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, আব্দুস সালাম, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।