সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ
Printed Edition
রেজাউল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গত দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলেই শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন, যা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে চরম বিপর্যস্ত করে তুলেছে। উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে চরাঞ্চলের মানুষ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সবকিছু হারিয়ে অনেকের দিন কাটছে কেঁদে কেঁদে। মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিচ্ছেন অনেকে। অনেক পরিবার পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন। বর্তমানে কালীর খামার, রাঘব, উত্তর শ্রীপুর, পূর্ব লালচামার, লালচামার ও ভোরের পাখি গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম আকুতি জানিয়ে বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি সব নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, কী খাওয়াব, তা আল্লাহই জানেন। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলে রাতে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থায়ীভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা ছাড়া এই করাল গ্রাস থেকে বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। চরাঞ্চলের মানুষের এই দুর্যোগ মুহূর্তে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি দুর্গতদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি যোগাযোগ করেছি। মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, নদীভাঙন রোধে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।