বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নজরুল ইসলাম খান

যুবকদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বিগত সময়ে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধারণার চেয়েও বেশি ধ্বংস হয়েছে। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ কষ্টে আছে, আর আমাদের যুবসমাজ এখন হতাশ। তাদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও বিজয়ী দলগুলোর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, একুশের চেতনা থেকেই দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারা তৈরি হয়েছে- ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণজাগরণ- সবই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এবং বর্তমান সরকারকে অতীতের ‘ধ্বংসস্তূপের’ ওপর দাঁড়িয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছে। দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রের বহু প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে অর্থনীতি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ‘যুবকদের হতাশা দূর করে তাদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। তা হলেই বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে,’ যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, চেয়ারম্যান, ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন ছিল নাগরিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার নির্বাচন। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার ইতোমধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে তিনি স্বাগত জানান। তবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মব কালচার প্রতিরোধ- এসব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতার হোসেন খানসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রথম রানারআপ ইডেন মহিলা কলেজ এবং দ্বিতীয় রানারআপ তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম।

চ্যাম্পিয়ন দলকে দুই লাখ টাকা, প্রথম রানারআপকে দেড় লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপকে এক লাখ টাকা পুরস্কার, ট্রফি ও সনদপত্র দেয়া হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

আয়োজকরা জানান, গণতান্ত্রিক চর্চা ও তরুণদের যুক্তিবোধ বিকাশে এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।