কাতারে বোমাবর্ষণের কথা স্বীকার করে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি

Printed Edition

আলজাজিরা

কাতারে বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে দেশটিকে নিজেদের ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলের নীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি কাতার।

নিজের আক্রমণের সাফাই গেয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, যুদ্ধের সময় বোমাবর্ষণও করেছি এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারাও আমার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।’ উল্লেখ্য, আগামী মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দোহার সেই ইসরাইলি বিমান হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত ২০২৫ সালের ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনাকালে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান। সে সময় কাতার সরকার ও জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারি অর্থ সহায়তার অনুমতির বিষয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের পরামর্শক্রমে কেবল মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য এ অর্থের অনুমতি দেয়া হয়েছিল, যা উপত্যকায় আসা মোট সহায়তার মাত্র দুই শতাংশ। তবে বিরোধী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিযোগ, উক্ত অর্থ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আক্রমণের প্রস্তুতি ও হামাসের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল। এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আলে সানি পূর্বে জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ নজরদারিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের সমস্ত অর্থ গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর জাতীয়তাবাদী ভোটারদের আস্থা অর্জন ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই নেতানিয়াহু এমন বিতর্কিত কৌশল নিচ্ছেন বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।