ঠিকানায় পাওয়া যায়নি হাসিনাসহ ৩০ জনকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো গণহত্যাসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের নিজ নিজ ঠিকানায় খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পর বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে দু’টি জাতীয় দৈনিকে এই নোটিশ জারি করার আদেশ দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে জহিরুল আমিন জানান, এ মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। তাদের স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে তাদের হদিস না পাওয়ায় নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর দিয়েছেন তারা। তাই পলাতকদের হাজিরের জন্য দু’টি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রয়োজন। একইসাথে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চান এই প্রসিকিউটর।

শুনানি শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেফতার ১০ জনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ডা: দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু। তবে অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে হাজির করা হয়নি।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্যরা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা: ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক মো: মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দফতর ও প্রশাসন) মো: আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো: আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।

এর আগে, গত ১৬ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১১ আসামিকে হাজির করার কথা ছিল। তবে দু’জনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃত ব্যক্তিদের নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর না আসায় সময় চায় প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসাথে পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেফতারদের হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়।

এ মামলায় দু’টি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।