আফ্রিকান ইউনিয়ন সম্মেলনে ট্রাম্পের নীতি নিয়ে আলোচনা
Printed Edition
আলজাজিরা
আফ্রিকান ইউনিয়নের ৩৯তম বার্ষিক সম্মেলন গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে উপস্থিত নন, তার নীতি ও পদক্ষেপই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ট্রাম্পের বিদেশী সহায়তা কমানো, বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন এবং অভিবাসন সীমিতকরণ আফ্রিকার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বহুপক্ষীয় সহযোগিতা থেকে সরে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছে। আফ্রিকান নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীন, উপসাগরীয় দেশ ও ইউরোপের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছেন, যাতে একক অংশীদারের ওপর নির্ভরশীল না হতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নথিতে আফ্রিকার উল্লেখ খুবই সীমিত। তবে এতে চীনের প্রভাব মোকাবেলা এবং কঙ্গো ও সুদানে সঙ্ঘাত শেষ করার প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে বিদেশী সহায়তা থেকে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা কমানো আফ্রিকায় স্বাস্থ্য খাতে বড় ক্ষতি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে বছরে পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, কেনিয়া ও ক্যামেরুনে অপুষ্টি ও রোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সম্মেলনে বড় আলোচনার বিষয় হবে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি আফ্রিকার দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। লেসোথো ও মাদাগাস্কারের মতো দেশগুলো প্রথমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়ে। পরে তা কমানো হলেও ক্ষতি হয়েছে। আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট সাময়িকভাবে বাড়ানো হলেও তা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এ ছাড়া ট্রাম্প ৭৫টি দেশের অভিবাসন ভিসা বন্ধ করেছেন, যার মধ্যে ২৬টি আফ্রিকান দেশ রয়েছে। কয়েকটি দেশ পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকান ইউনিয়ন সম্মেলনে নেতারা ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ বজায় রাখবেন, ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আশ্বস্ত করা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা। আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার মামলা করেছে। নামিবিয়া ও ঘানাও যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা নীতির সমালোচনা করেছে। সামগ্রিকভাবে আফ্রিকান ইউনিয়ন সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি, আফ্রিকার স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ভারসাম্যের প্রশ্নে বড় ধরনের আলোচনার মঞ্চ হয়ে উঠেছে।