গফরগাঁও ও দোয়ারাবাজারে শিলাবৃষ্টি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ময়মনসিংহের গফরগাঁও এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রচণ্ড শিলায় বাড়িঘরের টিন ফুটো হয়ে যায়। এছাড়া গাছপালা উপড়ে গেছে।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে ঘরবাড়ি-গাছপালা। শিলার বসতঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। এ দিকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে গফরগাঁও উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কৃষি বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পাইথল, টাংগাব, নিগুয়ারী, উস্থি, পাঁচবাগ ও সালটিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এসব ইউনিয়নের প্রায়ই গ্রামে বোরোধানসহ কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়।
জানা যায়, উপজেলার পাইথল ইউনিয়নের দেউলপাড়া, শহীদনগর, গয়েশপুর, গোয়ালবরসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম, টাংগাব, নিগুয়ারী, পাঁচবাগ, উস্থি ও সালটিয়া ইউনিয়নের প্রায় গ্রামে বেশির ভাগ ক্ষেতের বোরো ধান পড়ে গেছে। উপজেলা গয়েশপুর বাজারে ব্যবসায়ী ফখরুল হাসান রনি জানান, এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি শিলা বৃষ্টি হয়েছে। শিলা বৃষ্টির ফলে উঠতি বোরো ধান ঝড়ে পড়েছে। গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিন মাস্টার জানান, এই পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে, যা রাস্তায় শিলা ঢেকে গিয়েছিল। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। পাঁচবাগ গ্রামের বাসিন্দা রুবেল জানান, ঝড় ও শিলা বৃষ্টির ফলে বোরো ধান, শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রামীণ সড়কে গাছপালা পড়ে আটকে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার ছিঁড়ে যাওয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎব্যবস্থা। পাইথল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ইউনিয়নের দেউলপাড়া, গয়েশপুরসহ প্রায় গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল, ঘরবাড়ি, গাছপালা, শাকসবজিসহ আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকুরা নান্মী বলেন, শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে মাঠ কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে। সব মিলিয়ে ৭৫ একর বোরো ধানের ক্ষতি হতে পারে। তার মধ্যে পাইথল ইউনিয়নের প্রায় ৫০ একর বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। বাকি অন্য সব ইউনিয়নের কম বেশি বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধান পাকতে শুরু করতেই দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ ও শিলাবৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব। সবুজে মোড়া মাঠে সোনালি ধানের শীষ দোলার মাঝেই হঠাৎ শীষ মরে সাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলে সম্ভাবনাময় ফলনের মাঝেও কৃষকদের মনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অনেক স্থানে ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কোথাও কোথাও আগাম কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। তবে ঠিক এই সময় মাজরা পোকা ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ, সাথে থেমে থেমে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে।
গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবুজ ধানের শীষের মাঝে অনেক জায়গায় শীষ মরে সাদা হয়ে গেছে। বিশেষ করে পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের উষাইরগাঁও এলাকায় দেখার হাওরে এ চিত্র বেশি চোখে পড়ে। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দোয়ারাবাজারে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। ধান ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম জানান, বোরো আবাদ শুরুর পর থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।