অনিয়ম করতেই পদোন্নতি কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয় রেজিস্ট্রারকে
বেরোবিতে জাল সনদ ও অভিজ্ঞতায় চাকরির হিড়িক
Printed Edition
সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর ব্যুরো
জাল সনদ ও অভিজ্ঞতায় চাকরি করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য উদঘাটনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সংশ্লিষ্ট দফতরে সশরীরে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পাশাপাশি দুদকের কাছে তথ্য আসে জাল-জালিয়াতিকারীদের পদোন্নতি দিতেই কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয় রেজিস্ট্রারকে।
গতকাল দুপুরে দুদুকের রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা তদন্তের অংশ হিসেবে ভিসি ও রেজিস্ট্রারের রুমে যান এবং তাদের সাথে কথা বলেন। জাল সনদে চাকরিরতদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ফাইলপত্র ও তথ্য তলব করেন। কিছু ফাইলপত্র সংগ্রহও করেন। বাকি ফাইলপত্র দেয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুদকের সূত্রগুলো জানায়, পারস্পারিক যোগসাজশে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি বোর্ড জাল সনদ ও অভিজ্ঞতার সনদের তথ্য গোপন করে ছয়জন জালকে পদোন্নতি দেয়ার জন্য ভিসির কাছে সুপারিশ করলে বিষয়টি নজরে আসে। পরবর্তীতে দেখা যায় অন্তত আরো ১৮ জন এ ধরনের চাকরি করছেন। যাদের অনেকের সনদ ও অভিজ্ঞতার সনদ জাল। এ বিষয়ে অভিযোগ হলে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের নির্দেশে এই তদন্ত অভিযান চালানো হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাইলপত্র ও নথি হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে মামলার কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছে দুদক।
দুদকের তদন্ত সূত্রগুলো জানায়, এরই মধ্যে জালিয়াতি চক্রটি নিজেদের বাঁচাতে কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ড থেকে বর্তমান রেজিস্ট্রারকে বাদ দিয়ে তার স্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রেজিস্ট্ররকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এসব বিষয়ে তথ্য যথাযথভাবে তুলে ধরবেন সেই শঙ্কায় এ কাজ করানো হয়। ফলে দেখা যায় সম্প্রতি উপস্থাপিত পদোন্নতিতে জাল সনদ ও অভিজ্ঞতার জন্য ছয়জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। ভিসির নজরে এলে তিনি পদোন্নতি স্থগিত করে দেন। এ অবস্থায় ওই পদোন্নতি বোর্ডে বেরোবি রেজিস্ট্রারকে বাদ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে সংযুক্ত করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে দুদক।
সূত্র জানায়, জাল শিক্ষাগত সনদ ও অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে অনেকেই চাকরি করছেন। তাদের অধিকাংশই সাবেক ভিসি ড. আবদুল জলিল মিয়ার আমলে নিয়োগ পাওয়া। এরমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তারা হলেন সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের সিনিয়র ক্যাটলগার জেসমিন আরা, ক্যাটালগার আলমগীর হোসেন, ক্যাটলগার মাহফুজুর রহমান, উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান, সিনিয়র সেমিনার সহকারী আবু তাহের মণ্ডল, আন্তর্জাতিক সেলের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার গোলাম মোস্তফা, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা, স্টুডেন্ট অ্যান্ড ক্যাশ শাখায় উপ-রেজিস্ট্রার মাহবুবারে রহমান, ইইই বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার শাহীদ আল মামুন, শেখ মুজবির রহমান হলের সেকশন অফিসার (গ্রেড-১) আতিকুজ্জামান সুমন, বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) মনিরুজ্জামান, ভুগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) এমদাদুল হক, কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের সহকারী স্টোর কিপার রেহান সরকার, পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, কেন্দ্রীয় ভান্ডারের উপ-রেজিস্ট্রার মোর্শেদ উল আলম রনি, বাজেট শাখার উপ পরিচালক খন্দকার আশরাফুল আলম।
এরই মধ্যে ইরিন জাহান নামে শারীরিক শিক্ষা বিভাগেরে ইনস্টাক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, জাল সনদে অনেক শিক্ষক চাকরি করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। তাদের বিষয়ে দুদকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা না হলেও বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে।