কাউখালীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা
Printed Edition
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত বুধবার পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে সাতজন ভর্তি হন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে হাসপাতালটিতে মোট ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পুরাতন ডাকবাংলো এলাকা, হাসপাতালের আশপাশ, বিভিন্ন খালি জায়গা ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় মশার প্রজনন বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না থাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীরব্যথা ও দুর্বলতা অনুভব করার পর পরীক্ষা করলে তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তারা জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে মনে করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কর্মকার বলেন, উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি কোথাও পরিষ্কার পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ডা: সুব্রত কর্মকার আরোওবলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এ দিকে স্থানীয় সচেতন মহল নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছে।