একদিনে সর্বোচ্চ ১৫৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪

Printed Edition
back-3
রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হলেও এবার চলতি মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মৃতদের সবাই ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে তিনজন এবং রাজধানীর বাইরের হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা দেয়া হয় ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত ১০ বছরে কয়েক শ’ কোটি টাকা কেবল মশক নিধনে ব্যয় করলেও কোনো ফল মিলেনি মশা আগের মতোই মানুষকে কামড়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থ বছরেও তিন শ’ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে মশক নিধনে। কিন্তু এরই মধ্যে চলতি অর্থ বছরের দুই মাসের বেশি চলে গেলেও মশার প্রজনন বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরবাসীও মশার কামড় থেকে মুক্তি পায়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু মশার জন্য বেশ অনকূল পরিবেশ বজায় থাকে। থেমে থেমে বৃষ্টি কিংবা তাপমাত্রার সাথে ডিম ফুটে লার্ভা উৎপাদনে অনকূল আর্দ্রতাও থাকে এ মাসে। ফলে এ সময়ে মশক নিধনে একটু বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ডা: মো: ওয়াহিদুজ্জামান ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এই মশা সম্বন্ধে বলেন, এডিস মশার ডিম উৎপাদন এবং তা থেকে লার্ভা হওয়ার জন্য ২৮ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সর্বত্র তাপমাত্রা সেই পর্যায়ে থাকে। আবার বেশ ভালো বৃষ্টি হচ্ছে সারা দেশে। ফলে ডিম ফোটার জন্য অনুকূল আর্দ্রতাও রয়েছে সারা দেশে। সে কারণে এ মাসে এডিস, তথা সব ধরনের মশা নিধনের জন্য একটু বেশি তৎপর হতে হবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এর মধ্যে তিনজনই নারী। তাদের মধ্যে ৫ বছরের একটি শিশু ছিল, আরেকজন ১০ থেকে ১৫ বছরে কিশোরী এবং অন্যজন ৫০ থেকে ৬০ বছরের। একমাত্র পুরুষ রোগীর বয়স ছিল ২১ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু রোগে। এর মধ্যে ৫৫.৬ শতাংশ নারী এবং বাকিরা পুরুষ। তবে আক্রান্তের দিক থেকে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। এর কারণ হিসেবে ডা: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন কর্মক্ষেত্রে থাকার সময়। সে কারণে পুরুষের সংখ্যা বেশি। অন্য দিকে নারীদের মৃত্যুর ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদের চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়। নারীরা সহজেই তাদের রোগের কথা বলেন না। আবার নজরে আসলেও নারীদের চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের দেশে অবহেলা রয়েছে। সে কারণে নারীদের মৃত্যু বেশি হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে ৩১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে বিভাগীয় হিসেবে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে খুলনা বিভাগে ৩৩৪ জন। অপর দিকে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১৯৩ জন হয়ে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৮ জন। গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত দেশে মোট ৪২ হাজার ৫৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৭৯ জন।