ভোটের ছুটিতে সরবরাহ কম দাম বেড়েছে মুরগি পেঁয়াজের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিন এবং এর আগে-পরে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। যদিও প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিল, তবু বাস্তবে পরিবহন সঙ্কট ও বাড়তি খরচের কারণে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজারে সবজি, পেঁয়াজ ও মুরগির দাম বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর ৬, দুয়ারীপাড়া ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজির দাম ভোটের আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, সীমিত আকারে পরিবহন চলাচল করায় পাইকারি বাজারে পণ্য আনা কমেছে, একই সাথে বেড়েছে ভাড়া। দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে খুচরা দামে।

মিরপুর-৬ বাজারে সবজি বিক্রেতা এনামুল জানান, ‘সরবরাহ যেমন কম, তেমনি ক্রেতাও কম। দাম ১০-২০ টাকা বাড়লেও এখনো নাগালের মধ্যে আছে। স্বাভাবিক দিনের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরো বাড়ত।’

সেগুনবাগিচার বিক্রেতা ইয়াছিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাওরান বাজারে সবজি আমদানি তুলনামূলক কম ছিল। ‘শসা, মটরশুঁটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ঠিকমতো পাইনি। তাই দোকানে এসব পণ্য নেই বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, বেগুন, ঝিঙা, শসা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙা, বাঁধাকপি ও ফুলকপির মতো সবজি এক থেকে দু’দিনের বেশি মজুদ রাখা যায় না। বেশি সময় রাখলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে ভোট উপলক্ষে পরিবহন সীমিত থাকায় নতুন চালান কম এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহে। তারা আশা করছেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে বাজারও স্থিতিশীল হবে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দুই পণ্যের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়, যা ভোটের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ টাকা বেশি। এ ছাড়া শিম, মুলা ও পেঁপে মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। হাইব্রিড করলা ও মটরশুঁটির দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। সবজির পাশাপাশি বেড়েছে পেঁয়াজ ও মুরগির দামও। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে যা ছিল ৫০ টাকা। মুরগির বাজারেও একই চিত্র। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তেল, চিনি ও অন্যান্য মুদিপণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ডিমের দামও প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ছুটি ও পরিবহন সঙ্কটজনিত সাময়িক সরবরাহ ঘাটতির কারণে এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক হলে এবং পাইকারি বাজারে সরবরাহ বাড়লে কয়েক দিনের মধ্যেই দাম স্থিতিশীল হতে পারে। অন্য দিকে, ভোটের কারণে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কম থাকায় বেচাবিক্রিও কমেছে। অনেক দোকানি বাড়তি খরচের ঝুঁকি এড়াতে পণ্য তোলেননি। কিছু দোকান বন্ধও দেখা গেছে।