গোয়ালন্দে ষষ্ঠ শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি চার গুণ বেশি আদায়

Printed Edition

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের নামে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত অঙ্কের তিন/চার গুণ বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে ২০২৬ সালের শিক্ষা পরিপত্র অনুযায়ী জানা যায়, সরকার কর্তৃক ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০ টাকা, গার্ল গাইডস ফি ১৫ টাকা, স্কাউট ফি ২৫ টাকা এবং রেড ক্রিসেন্ট ফি ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সরকারি ফি ৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করলে কোনো অতিরিক্ত ফি দিতে হয় না। তবে ২৫ ফেব্রুয়ারির পর পরিশোধ করলে ৫০ টাকা লেট ফি যুক্ত হয়ে মোট ১৪৮ টাকা আদায় করার বিধান রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি আক্কাস আলী হাইস্কুল, গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুল, দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল, উজানচর জামতলা হাইস্কুল, গোয়ালন্দ এফকে টেকনিক্যাল স্কুল, দেওয়ানপাড়া কিন্ডারগার্টেনসহ উপজেলার বিভিন্ন এমপিও ও নন-এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, তাদের কাছ থেকে ৯৮ টাকার স্থলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আবার কিছু নন-এমপিওভুক্ত কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুলে পড়–য়া কয়েকজন ছাত্রের অভিভাবক শরিফ খাঁ, ফরিদ বেপারী ও শারমিন আক্তার জানান, রেজিস্ট্রেশন ফি ও উপবৃত্তির অনলাইনে আবেদন বাবদ তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। শরিফ খাঁ বলেন, ‘আমি গাঙ্গে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালাই। টাকা দিতে না পারলে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে- এই ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে জমা নিয়েছেন। এর বাইরে তিনি আর কিছু জানেন না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, উপজেলার সব হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি, উপবৃত্তির অনলাইন আবেদন ও অন্যান্য ফি বাবদ ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে তাদের স্কুলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়া হবে।

গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, সরকারি ১৪৮ টাকার পরিবর্তে তারা ২০০ টাকা আদায় করেছেন। অন্য দিকে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের স্কুলে সরকার নির্ধারিত ৯৮ টাকাই নেয়া হয়েছে।

দেওয়ানপাড়া কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি কোনো অনুদান না পাওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের পেছনে বাড়তি খরচ হওয়ায় অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে ৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, সব বিদ্যালয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৯৮ টাকা এবং নির্ধারিত সময়ে পরে ১৪৮ টাকার বেশি আদায়ের সুযোগ নেই। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।