রেমিট্যান্স-রিজার্ভে স্বস্তি, ঋণখেলাপি ও দুর্বল বিনিয়োগে বাড়ছে উদ্বেগ
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একই সাথে স্বস্তি ও উদ্বেগের ছবি দেখা যাচ্ছে। একদিকে রেকর্ড রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে পুনরুদ্ধার, চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক নি¤œমুখী প্রবণতা অর্থনীতিকে কিছুটা শ্বাস নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ, বেসরকারি খাতে ঋণের মন্থর প্রবাহ এবং শিল্প বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ফলে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান গল্পটি সরলভাবে ‘পুনরুদ্ধার’ কিংবা ‘সঙ্কট’- কোনোটিই নয়। বরং এটি বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বনাম অভ্যন্তরীণ আর্থিক দুর্বলতার দ্বৈত বাস্তবতা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গতকাল প্রকাশিত অর্থনৈতিক সূচকের তথ্য বলছে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার- একটি রেকর্ড পরিমাণ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩০.৩৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে জুন শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩২.৯৩ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ যে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট এক সময় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছিল, সেখানে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- এই স্বস্তি কি অর্থনীতির ভেতরের দুর্বলতাও দূর করছে? উত্তরটি আপাতত ‘না’।
রেমিট্যান্সে রেকর্ড, রিজার্ভে স্বস্তি
গত অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রবাসী আয়। ২০২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০.৩৩ শতাংশ। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই প্রবণতা শুধু বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ায়নি; আমদানি পরিশোধ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জুন ২০২৬ শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২.৯৩ বিলিয়ন ডলার। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রিজার্ভের প্রকৃত সক্ষমতা মূল্যায়নে বিপিএম৬ হিসাব আন্তর্জাতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য।
এখানে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন স্পষ্ট- বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন আগের তুলনায় বেশি সক্ষম। তবে রিজার্ভ বাড়া মানেই অর্থনীতির সব সমস্যার সমাধান নয়। রিজার্ভ মূলত অর্থনীতিকে সময় কিনে দেয়; দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্প সম্প্রসারণ এবং সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থা।
মূল্যস্ফীতি কমছে, কিন্তু স্বস্তি কতটা?
মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক তথ্য কিছুটা আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদনে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮.৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুনে ছিল ৯.১৬ শতাংশ। ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতিও জুনের ৮.৬৮ শতাংশ থেকে জুলাইয়ে ৮.৬৬ শতাংশে সামান্য কমেছে।
কিন্তু এখানে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা জরুরি- মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; দাম বাড়ার গতি কমে যাওয়া। গত কয়েক বছরে খাদ্য, জ্বালানি, পরিবহন, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে মূল্যস্তর তৈরি হয়েছে, সেটি এখনো সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
ফলে সামষ্টিক সূচকে মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের বাস্তব অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতায় স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে।
রিজার্ভের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন : ব্যাংকিং খাত
বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বল জায়গাটি এখন বৈদেশিক খাত নয়; বরং আর্থিক খাত। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাংকিং ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন, রাজনৈতিক প্রভাব, পুনঃতফসিলের সংস্কৃতি এবং ঋণ আদায়ে কাঠামোগত দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণের অনুপাত ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে ২০২৪ সালের জুনে ছিল ১২.৫৬ শতাংশ। এই ধরনের বৃদ্ধি কেবল ব্যাংকের হিসাবের সমস্যা নয়- এটি অর্থনীতির ঋণ সৃষ্টির সক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত।
খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংককে বেশি প্রভিশন রাখতে হয়। মূলধনের ওপর চাপ বাড়ে। নতুন ঋণ দেয়ার সক্ষমতা কমে। ভালো উদ্যোক্তারাও ঋণ পেতে সমস্যায় পড়েন। শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থনীতিতে ‘ক্রেডিট ক্রাঞ্চ’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ বাড়ে-> ব্যাংকের মূলধন দুর্বল হয় -> নতুন ঋণ কমে -> বিনিয়োগ কমে-> উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে -> প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়। এই চক্র ভাঙতে না পারলে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের সাফল্যও দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট হবে না।
সরকারি ঋণ বাড়ছে, বেসরকারি ঋণ পিছিয়ে
বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হলো সরকারি ও বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের বৈপরীত্য। সরকারের ব্যাংকঋণ দ্রুত বাড়ছে, অথচ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৩৪.৫১ শতাংশের বিপরীতে বেসরকারি খাতে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশ।
এই ব্যবধান অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার যখন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নেয়, তখন ব্যাংকের ঋণযোগ্য অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি অর্থায়নে চলে যেতে পারে। একই সময়ে উচ্চ সুদহার ও অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারাও নতুন ঋণ নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন।
ফলে অর্থনীতিতে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়- ব্যাংকে অর্থ আছে, কিন্তু উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ঋণের চাহিদা ও প্রবাহ দুটোই দুর্বল। এটি অর্থনীতির আস্থার সঙ্কটেরও প্রতিফলন।
বিনিয়োগের সঙ্কেত কি ভালো?
বৈদেশিক খাতে স্বস্তি ফিরলেও শিল্প উৎপাদনের তথ্য পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬-এর প্রধান অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বৃহৎ শিল্প উৎপাদন সূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৪২ শতাংশ কমেছে। আগের অর্থবছরে একই সূচকে ৬.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। অর্থাৎ রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের উন্নতি এখনো শিল্প উৎপাদনে সমান শক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি।
মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও এলসি নিষ্পত্তির দুর্বলতাও এই সঙ্কেতকে আরো শক্তিশালী করে। এর অর্থ হতে পারে, উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনসক্ষমতা বৃদ্ধিতে এখনো সতর্ক। এখানেই বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ রেমিট্যান্স ভোগ ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগানকে সহায়তা করতে পারে; কিন্তু টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ।
রফতানি ধরে রেখেছে অর্থনীতিকে
বৈদেশিক খাতের দ্বিতীয় বড় স্তম্ভ রফতানি। তবে এখানেও সতর্ক হওয়ার মতো প্রবণতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুনের প্রতিবেদনে ২০২৬ অর্থবছরে পণ্য রফতানি প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.১৭ শতাংশে নেমে আসার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ২০২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.৬০ শতাংশ। একই সময়ে মোট রফতানির বড় অংশজুড়ে পোশাক খাতের অবস্থান অব্যাহত ছিল। অর্থাৎ রেমিট্যান্স শক্তিশালী হলেও রফতানি প্রবৃদ্ধি সেই একই গতিতে এগোয়নি।
জুলাই ২০২৬-এ আবার রফতানি ১.০৬ শতাংশ কমে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য জানায়। এটি বাংলাদেশের রফতানি বাজার, বৈশ্বিক চাহিদা, পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নতুন করে নজর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতিকে বোঝার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দু’টি চিত্র পাশাপাশি দেখা।
একদিকে- রেমিট্যান্স বাড়ছে, রিজার্ভ বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি কমছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে আবার অন্যদিকে- ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছে, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ দুর্বল, শিল্প উৎপাদনে চাপ, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
এ যেন অর্থনীতির বাইরের অংশটি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছে, অথচ ভেতরের আর্থিক কাঠামো এখনো অসুস্থ।
তাহলে কি প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াবে?
২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির গতি কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর।
প্রথমত, ব্যাংকিং খাত কত দ্রুত পুনর্গঠন করা যায়। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ কত দ্রুত বাড়ানো যায়। তৃতীয়ত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে কিভাবে গতিশীল করা যায়।
শুধু সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘদিন উচ্চসুদহার বজায় রাখলে বিনিয়োগ আরো দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন কঠিন ভারসাম্যের প্রশ্ন- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করবেন, নাকি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবেন- নাকি দু’টিকে একসাথে এগিয়ে নেয়ার নতুন কৌশল তৈরি করবেন?
সামনে সবচেয়ে জরুরি সংস্কার
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এখন আর দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি অর্থনীতির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন। প্রথমত, খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ও ব্যবসায়িক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। তৃতীয়ত, দুর্বল ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন এবং প্রয়োজন হলে একীভূতকরণ বা পুনর্বিন্যাসের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চতুর্থত, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় এমন ভারসাম্য আনতে হবে যাতে ব্যাংকের অর্থ উৎপাদনশীল বেসরকারি খাত থেকে অতিরিক্তভাবে সরে না যায়।
সবশেষে, ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের পথ বন্ধ করতে হবে। কারণ ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ছাড়া অর্থনীতির অন্য সংস্কারগুলোও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
শেষ কথা : স্বস্তির সময়, কিন্তু আত্মতুষ্টির নয়
বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। রেকর্ড রেমিট্যান্স এবং শক্তিশালী রিজার্ভ দেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-বলয় দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং জুন শেষে মোট রিজার্ভ ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।
কিন্তু এই স্বস্তিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি শুধু রিজার্ভে নয়; ব্যাংকের ঋণ আদায়ে, উদ্যোক্তার বিনিয়োগে, কারখানার উৎপাদনে এবং মানুষের কর্মসংস্থানে।
আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই রিজার্ভ কত বিলিয়ন ডলার- এটি নয়। প্রশ্ন হলো- ব্যাংকিং খাতকে কত দ্রুত সুস্থ করা যাবে? বেসরকারি বিনিয়োগ কত দ্রুত ফিরবে? এবং রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল বৈদেশিক স্বস্তিকে কিভাবে উৎপাদনশীল প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করা যাবে?
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারিত হবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই। বাইরের দরজা খুলেছে; এখন ভেতরের অর্থনীতির ঘর মেরামতের পালা।