দেশে নতুন করে উগ্রবাদ বিস্তারের আলামত দেখা যাচ্ছে। নয়া দিগন্তে গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে আবারো ব্যাপক নাশকতার ছক তৈরি করেছে উগ্রবাদী বিভিন্ন সংগঠন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করাই তাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের’ (টিটিপি) উদ্যোগে কেপিআই এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সভা-সমাবেশে নাশকতার ছক তৈরি করা হচ্ছে বলে খবরে বলা হয়।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসকনের ফিরতি রথযাত্রায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ইলেকট্রনিক ডিভাইসযুক্ত ছাতা থেকে দু’টি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। গোয়েন্দাদের বিশ্বাস এই বোমা বানানোর কারিগর নব্য জেএমবির সদস্য মামুন ওরফে বোমা মামুন। মামুন ও তার দলের সদস্যরা নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর আগে ভারতপন্থী টিটিপির চারজনকে গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার উগ্রবাদ দমনের নামে দেশের নিরীহ আলেম-ওলামাদের নির্মূলের মিশনে নেমেছিল। বিরোধী মত নির্মূলের মাধ্যমে হাসিনা তার স্বৈরাচারী শাসন প্রলম্বিত করেছে; কিন্তু উগ্রবাদ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এটি এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে আছে।

ইসলামে উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই; কিন্তু একশ্রেণীর মানুষ ইসলামকে পুঁজি করে উগ্রবাদে জড়াচ্ছে। বিদেশী নানা সন্ত্রাসী সংগঠনের মতাদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নীলনকশা আঁকছে। উগ্রবাদ দমনে এখনই পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নিলে তা সরকার ও দেশের জন্য সমূহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ধর্মভীরুতা, শিক্ষার অভাব ও উচ্চ বেকারত্বের কারণে দেশের কিছু মানুষের মধ্যে উগ্রবাদ জন্ম নেয়া অস্বাভাবিক নয়। এগুলোকে কেন্দ্র করে দেশী-বিদেশী নানা শক্তি দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। বিশেষ করে প্রতিবেশী একটি দেশ এমন অপচেষ্টা হরহামেশা চালায়। এমতাবস্থায় সরকারের সতর্ক ও কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর দেশে জেএমবির আবির্ভাব হয়। তখন সরকারের অদক্ষতা, বিদেশী শক্তির ইন্ধন ও দেশেরই কিছু চিহ্নিত মিডিয়ার কারসাজির কারণে বিষয়টি দেশের জন্য এক বিব্রতকর অবস্থা ডেকে এনেছিল। সেই শক্তি এখনো সক্রিয়। তারা আবারো সেই ২০০১ সালের জঙ্গি কার্ড খেলতে চায়।

সরকারকে এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই কোনো উগ্রবাদী সংগঠনকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। তবে শুধু গ্রেফতার আর জেল দিয়ে উগ্রবাদ দমন করা সম্ভব নয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি উগ্রবাদ দমনে চতুর্মুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উগ্রবাদী মতাদর্শের চর্চা যাতে না হয় সে জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে। উগ্রবাদ দমনের নামে স্বৈরাচারের মতো যাতে নিরীহ মানুষের ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।