কড়া নিরাপত্তায় বঙ্গভবন ছাড়লেন সাহাবুদ্দিন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
পদত্যাগের দুই দিন পর সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছাড়লেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। গতকাল রোববার বেলা ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হন। সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়ে বিকেল ৩টার কিছুক্ষণ আগে তিনি তার বাসভবনে পৌঁছান। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো: সাহাবুদ্দিন।
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর বেষ্টনীতে সরকারি গাড়িবহর নিয়ে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে যান সদ্য সাবেক হওয়া রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ পাওয়া মো: সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। অর্থাৎ তিন বছরের বেশি সময় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে পদ ছাড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আজীবন অবসর ভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। মো: সাহাবুদ্দিন যেহেতু ছয় মাসের বেশি সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তিনি ২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী আজীবন অবসর ভাতা পাওয়ার অধিকারী। এ ছাড়া আইন নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
তবে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি কী ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, নিরাপত্তা, সরকারি গাড়ি বা এসকর্ট সুবিধা পাবেন, তা সরাসরি অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত আইনে নির্ধারিত নেই। এসব বিষয়ে প্রযোজ্য সরকারি বিধি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রটোকল-সংক্রান্ত নির্দেশনা বা সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সূত্র মতে, অনেকটা চুপিসারে কালো কাচের গাড়িতে করে গতকাল দুপুরে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পু। ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতা। অথচ তার আগের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল রাজসিক। ফুলে সাজানো ছাদ খোলা গাড়ি করে স্ত্রীসহ হাত নাড়তে নাড়তে বঙ্গভবন ছেড়েছিলেন তিনি। বিশাল মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে রাজধানীর নিকুঞ্জে নিজ বাসভবনেও পৌঁছেছিলেন। কিন্তু চুপ্পুর বিদায়ে ছিল না ছাদ খোলা গাড়ি বা কোনো শোভাযাত্রা কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিকতা। বরং তিনি বঙ্গভবন ছেড়েছেন কড়া নিরাপত্তা এবং কালো গ্লাসে ঢাকা গাড়িতে করে।
তার বিদায় ঘিরে সকাল থেকেই বঙ্গভবন এলাকায় পুলিশ, এসএসএফ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। প্রথমে বেলা সাড়ে ১১টায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন ত্যাগ করবেন বলে খবর পাওয়া যায়। এরপর ১২টা, সাড়ে ১২টা, সোয়া ১টা এবং ২টাসহ বিভিন্ন তথ্য আসতে থাকে। পরে ২টা ২৫ মিনিটে বঙ্গভবনের মূল ফটক দিয়ে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির গাড়ি বহর বের হতে দেখা যায়। এ সময় বঙ্গভবন থেকে একে একে ১৮টি গাড়ি বেরিয়ে যায়। কোথাও না থেমে কয়েক মুহূর্তের মধ্য গাড়ি বহরটি সোজা চলে যায় গুলশানের উদ্দেশে।
অনেকে মনে করেছিলেন, গাড়িতে বসে অন্তত হাত নেড়ে বিদায় নেবেন চুপ্পু। কিন্তু তিনি তা করেননি। ফলে ঠিক কোন গাড়িতে করে বঙ্গভবন ছাড়লেন চুপ্পু, তাও বোঝার উপায় ছিল না। তা ছাড়া কড়া নিরাপত্তা ছাড়া বঙ্গভবনের বাইরে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিকতাও লক্ষ্য করা যায়নি।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারেন বলে জানা গেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানান তিনি। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বিদেশ যাবেন তিনি। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি হওয়ার পর ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এর ফলে তিনি মাঝে মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।