প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পর রাজধানী ঢাকার রাস্তাগুলো জেগে উঠেছে এক বেহাল অবস্থা নিয়ে। বরাবর শহরের এ দুরবস্থা থাকলেও এবার গুরুতর দুর্ভোগ নিয়ে হাজির হয়েছে। দু’ভাগে বিভক্ত সিটির প্রায় সব সড়কের বড় একটি অংশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিছু রাস্তা এমন যে, সেখানে গাড়ি চলাচল দূরে থাক; হেঁটেও চলাচল কষ্টসাধ্য। এতে প্রমাণ হয় ঢাকা বেড়ে উঠেছে বিশৃঙ্খল ও অপরিকল্পিতভাবে। বিগত সরকাগুলো আন্তরিকতার সাথে শহরের ধারাবাহিক টেকসই উন্নয়ন নীতি গ্রহণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে এই নগরীতে মসৃণ সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি।

ঢাকার রাস্তাগুলো খানাখন্দে ভরা। টানা বৃষ্টি যেন যত্রতত্র ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে গর্ত হয়ে আছে। সেখানে জমে আছে পানি। রাস্তার দু’পাশে এ ধরনের গর্ত হওয়ায় মাঝখানে চলাচলের সামান্য পথ অবশিষ্ট রয়েছে। কিছু জায়গায় গর্ত ডোবায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খন্দটির গভীরতা বোঝার কোনো উপায় নেই। সড়ক দেবে স্যুয়ারেজের লাইনের সাথে মিশেছে। এগুলো দায়িত্ব নিয়ে কেউ চিহ্নিতও করছেন না। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে না পারায় ডানে-বায়ে এমনভাবে দুলছে, যাত্রীদের সিটে বসতেও কষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

একটি সহযোগী দৈনিকে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বহু এলাকায় রাস্তার বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাড়া মহল্লার কিছু রাস্তা ও অলিগলির অবস্থা আরো করুণ। স্বাভাবিক হাঁটাচলার অবস্থাতেও নেই অনেক পথ। এর মধ্যে কিছু রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

রাজধানীর সড়কের পরিস্থিতি নাজুক করে তুলেছে সমন্বয়হীন উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম। ওয়াসা, ডেসা, সড়ক বিভাগ বিটিসিএল-সহ ডজনখানেক সংস্থা রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করে। এক সংস্থা কাজ করে যাওয়ার কিছু দিন পর আরেক সংস্থা আসে কাজ করতে। দেখা যায়, রাস্তা খুঁড়ে রেখে দেয় সংস্থাগুলো। সময়মতো কাজ শেষও করে না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খোঁড়াখুঁড়ির ধুম পড়ে। যে জন্য অনিবার্যভাবে ঢাকাবাসীর ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অথচ সংস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজ করলে জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব। শুধু তাই নয়, প্রকল্প খরচও অনেক কমবে। এ বিষয়ে জোর তাগিদ থাকলেও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কার্যকর রূপ নেয়নি।

দুই সিটি করপোরেশন মিলে তিন হাজার কিলোমিটারের কিছু বেশি সড়ক আছে রাজধানীতে। পুরো দেশের সড়ক যোগাযোগের তুলনায় এটি অত্যন্ত সামান্য। অথচ রাজধানীর সড়ক হিসেবে এগুলোর যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা, তা দেয়া হয় না।

বর্তমানে দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। এই সরকার সবকিছু ঢেলে সাজাতে চেষ্টা করছে। সে ক্ষেত্রে রাজধানীর সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার এবং ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ম চালু করবে এই প্রত্যাশা নগরবাসীর। তবে আপাতত খানাখন্দে ভরা সড়ক মেরামতের ত্বরিত উদ্যোগ নেয়া জরুরি। এরপর সব সেবা সংস্থাকে এক ছাতার নিচে এনে রাস্তার কাজ সমন্বয়ের স্থায়ী নিয়ম বেঁধে দিতে হবে। তবেই রাজধানীবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ কমতে পারে।