ডায়োজেনিসকে তার শত্রুরা কুকুর বলত। তিনি অপমানিত হতেন না; বরং সম্বোধনটিকে নিজের দর্শনের অংশ করে নিয়েছিলেন। বলতেন, অন্য কুকুর তার শত্রুকে কামড়ায়, আর তিনি কামড়ান তার বন্ধুদের; অন্য কুকুর কামড়ায় মারার জন্য, তিনি কামড়ান সুরক্ষার জন্য।

কথাটির মধ্যে এক অদ্ভুত নৈতিকতা আছে। সত্যিকারের বন্ধুত্ব সবসময় আদর করে না। কখনো কখনো বন্ধুকে কামড়েও দিতে হয়, যাতে সে বিপদ থেকে বাঁচে। যে কথা শুনতে ভালো লাগে, সেটি সবসময় কল্যাণকর নয়; আর যে কথা কষ্ট দেয়, সেটিও সবসময় শত্রুতার কথা নয়।

আমাদের সময়ের বড় সঙ্কট এখানেই।

আমরা এমন এক সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে বন্ধুর দায়িত্ব স্রেফ প্রশংসা করা। ভুল দেখলে চুপ থাকা ভদ্রতা, আপত্তি করলে বেয়াদবি, প্রশ্ন করলে অবিশ্বাস, আর সত্য বললে শত্রুতা। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে এমন একটি আয়না খুঁজে নেয়, যেখানে তার মুখের দাগ দেখা যায় না।

ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে এই রোগ আরো প্রকট হয়। সেখানে সত্যের চেয়ে আনুগত্যের দাম বেশি, যোগ্যতার চেয়ে তোষামোদের। সেখানে বিবেকের চেয়ে সুবিধাবোধ অনেক সময় শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যে মানুষটি গতকাল পর্যন্ত ক্ষমতাবানের সমালোচনা করছিলেন, আজ তার দরজায় দাঁড়িয়ে প্রশংসার মালা নিয়ে হাজির হতে পারেন। কারণ মত বদলায়নি; বদলেছে দূরত্ব। ক্ষমতা কাছে এসেছে, আর মেরুদণ্ড দূরে সরে গেছে।

ডায়োজেনিসের আপত্তি ছিল এখানেই।

তিনি রাজাকে তোষামোদ করে জীবন কাটাননি। সম্পদ জমাতে চাননি। আকাঙ্ক্ষাকে লাগামহীন হতে দেননি। একটি কলস, একটি চাদর, একটি লাঠি কিংবা একটি থলে ছিল তার সামানা। এ নিয়েই তিনি এমন এক স্বাধীনতার অনুশীলন করেছিলেন, যা অনেক রাজপ্রাসাদেও পাওয়া যায় না।

তার দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ছিল ataraxia বা মনের এমন স্থিরতা। আরেক পরিভাষা হলো apatheia বা আবেগের এমন নিয়ন্ত্রণ, যাতে বাইরের পরিস্থিতি মনের ওপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব করতে না পারে। এগুলোকে আজকের ভাষায় হয়তো বলা যায়— নিজের আকাঙ্ক্ষার ওপর নিজের কর্তৃত্ব।

এর সাথে যুক্ত ছিল autarkeia-স্বনির্ভরতা। মানুষের বাহ্যিক নির্ভরতা যত বেশি, তার স্বাধীনতাও তত বেশি ভঙ্গুর। এটি ছিল তার জীবনদর্শনের অন্তর্নিহিত যুক্তি। যে মানুষ সম্মান, সম্পদ, পদ, প্রাসাদ, পোশাক, ভোজ কিংবা অন্যের প্রশংসা ছাড়া বাঁচতে পারে না, সে বাইরে যত শক্তিশালীই দেখাক, ভেতরে ততটাই পরাধীন। ডায়োজেনিস তাই প্রয়োজন কমিয়ে স্বাধীনতা বাড়াতে চেয়েছিলেন।

তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল askesis বা অনুশীলন। তার বিচারে দর্শন কেবল বই পড়া নয়, কেবল তর্কের বিষয় নয়। দর্শনকে শরীর ও জীবনের মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়। ক্ষুধা, শীত, কষ্ট, অস্বস্তি, দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে না গিয়ে নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করো, যাতে পরিস্থিতি মানুষকে সহজে ভেঙে দিতে না পারে।

এখানে আসে ponos বা কষ্টসহিষ্ণু পরিশ্রমের ধারণা। আরাম মানুষকে সবসময় শক্তিশালী করে না; কখনো কখনো অতিরিক্ত আরাম মানুষকে প্রয়োজনের দাসে পরিণত করে। তাই ডায়োজেনিস ইচ্ছাকৃত সরলতা ও কষ্টকে আত্মশিক্ষার উপায় হিসেবে দেখেছিলেন। তার দর্শনের প্রশ্ন ছিল— তুমি কত কিছু ভোগ করতে পারো, সেটি মুখ্য নয়। মুখ্য সওয়াল হলো— কত কমের মধ্যেও তুমি নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে পারো?

এই ভাবধারার সাথে যুক্ত ছিল physis I nomos-এর পার্থক্য— প্রকৃতি ও সামাজিক বিধি। মানুষ যে অনেক নিয়মকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়, সেগুলোর সবই প্রকৃতিগত বা নৈতিকভাবে অপরিহার্য নয়। সমাজের তৈরি মর্যাদা, লজ্জা, আড়ম্বর, শ্রেণিবিভাগ ও সামাজিক অভিনয়কে ডায়োজেনিস তাই সন্দেহের চোখে দেখতেন। তার প্রশ্ন ছিল— মানুষ সত্যিই যা প্রয়োজন তার জন্য বাঁচছে, নাকি সমাজ তাকে যা প্রয়োজন বলে শিখিয়েছে তার জন্য বাঁচছে?

এখান থেকে জন্ম নেয় তার ঢ়parrhesia বা নির্ভীক সত্যকথনের চর্চা। তিনি ক্ষমতাবানকে খুশি করার জন্য কথা বলতেন না। সত্য যদি অস্বস্তিকরও হয়, তবু তা বলার স্বাধীনতাকে তিনি মূল্যবান মনে করতেন। ফলে তার দর্শনে বাকস্বাধীনতা ছিল আত্মমর্যাদার অংশ। যে সত্য বলতে পারে না, সে অনেক সময় নিজের কাছেও স্বাধীন নয়।

তার দর্শনে নিহিত ছিল anaideia, তথা সামাজিক কৃত্রিমতার বিরুদ্ধে একধরনের নির্লজ্জ প্রত্যাখ্যান। এখানে ‘নির্লজ্জতা’র মানে নৈতিক অধঃপতন নয়। এর মানে হলো— সমাজ যেসব বিষয়কে কৃত্রিম লজ্জা, ভান ও প্রদর্শনের মাধ্যমে ঢেকে রাখে, সেগুলোকে প্রকাশ্যে হাজির করার দার্শনিক কৌশল। ডায়োজেনিসের আচরণ তাই অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক ছিল। তিনি মানুষকে শুধু উত্তর দিতে চাইতেন না; মানুষকে তার নিজের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাইতেন।

তিনি নিজেকে কেবল একটি নগররাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে না দেখে ‘বিশ্বনাগরিক’ হিসেবে ভাবতেন। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি কোথাকার মানুষ, তখন নিজেকে আখ্যায়িত করেছেন kosmopolitçs বা বিশ্বনাগরিক। এই ধারণা তার রাজনৈতিক চিন্তায় একটি বিস্ময়কর প্রসার এনে দেয়। মানুষের মর্যাদা কোনো শহর, শ্রেণী বা রাষ্ট্রের সীমানায় আবদ্ধ নয়, এই বোধ পরবর্তী বিশ্বনাগরিকতার ধারণার সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করে।

ডায়োজেনিসের আরেকটি মৌলিক অবস্থান ছিল paracharaxis। এর মানে, সামাজিক মূল্যবোধের প্রচলিত মুদ্রাকে নতুন করে ঘষে তার আসল ধাতু পরীক্ষা করা। তিনি বলেন paracharattein to nomisma মুদ্রাকে বিকৃত করো। প্রচলিত সামাজিক মূল্যমানকে পুনর্মূল্যায়নের একটি দার্শনিক আহ্বান জানান তিনি। সমাজ যাকে সাফল্য বলে, তা কি সত্যিই সাফল্য? সমাজ যাকে সম্মান বলে, তা কি সত্যিই সম্মান? সমাজ যাকে প্রয়োজন বলে, তা কি সত্যিই প্রয়োজন?

এই প্রশ্নগুলোই তাকে বানায় সামাজিক মূল্যবোধের পরীক্ষক।

এ কারণেই মানবজীবনের ঔৎকর্ষ বা কল্যাণ তার বিচারে সম্পদের সাথে সমার্থক নয়। সুখী জীবন মানে বেশি পাওয়া নয়; বরং ভালোভাবে বাঁচতে পারা। মানুষের প্রকৃত সমৃদ্ধি বাহ্যিক সঞ্চয়ে নয়, চরিত্রের স্বাধীনতায়। এই জায়গায় ডায়োজেনিসের দর্শন গ্রিক নৈতিক দর্শনের বৃহত্তর প্রশ্নের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। প্রশ্নটি হলো— মানুষের ভালো জীবন আসলে কী?

তার দর্শনে আছে স্বাধীনতার একটি উল্টো সমীকরণ।

প্রয়োজন যত কম, নির্ভরতা তত কম; নির্ভরতা যত কম, স্বাধীনতা তত বেশি। আর স্বাধীনতা যত বেশি, অন্যের স্বীকৃতির প্রয়োজন তত কম।

এ কারণেই ডায়োজেনিসের রাজদরবারবিরোধিতা ছিল মানুষের ভেতরের পরাধীনতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। আলেকজান্ডার তার সামনে দাঁড়িয়ে যখন বলেছিলেন, ‘আমি আলেকজান্ডার’, ডায়োজেনিসের উত্তর ছিল— ‘আমি ডায়োজেনিস’। এই ছোট্ট ঘটনাটির শক্তি এখানেই যে, তিনি সম্রাটের পরিচয়ের নিচে নিজের পরিচয়কে ছোট করেননি।

আজকের মানুষকে তাই ডায়োজেনিস প্রশ্ন করছেন। তিনি বলছেন, তোমার মালিক কে, তোমার প্রয়োজন, তোমার আকাঙ্ক্ষা, সমাজের প্রশংসা, নাকি তুমি নিজে?

আজ মানুষ বাজারকে তোষামোদ করে, ব্র্যান্ডের কাছে নিজের পরিচয় সমর্পণ করে, সামাজিক স্বীকৃতির সামনে নত হয়। ডায়োজেনিসের সময়ের রাজপ্রাসাদ হয়তো আজ অনেকের জীবনে নেই; কিন্তু তার বদলে এসেছে বিজ্ঞাপন, মর্যাদার প্রতিযোগিতা, সামাজিক মাধ্যম, প্রদর্শন, ভোগের সংস্কৃতি এবং অন্যের চোখে নিজেকে প্রতিষ্ঠার অবিরাম তাড়না।

তাই আজকের সওয়াল হলো— মানুষ কি নিজের জীবন যাপন করছে, নাকি অন্যেরা যেভাবে জীবনকে সংজ্ঞায়িত করেছে, তার মতো হওয়ার অভিনয় করছে?

তিনি মানুষকে দরিদ্র হতে বলেননি; তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, সম্পদের মালিক তুমি, নাকি সম্পদই তোমার মালিক?

আজ আমাদের দারিদ্র্য শুধু অর্থের নয়; আকাঙ্ক্ষারও। আমাদের প্রয়োজনের সীমা ছোট; কিন্তু চাওয়ার সীমা প্রায় নেই। অন্যের বাড়ি দেখে নিজের বাড়ি ছোট লাগে, অন্যের গাড়ি দেখে নিজের গাড়িটি পুরনো মনে হয়। সামাজিকমাধ্যম এই তুলনার আগুনে প্রতিদিন নতুন কাঠ যোগ করছে।

মানুষ এখন শুধু জিনিস কেনে না; সে মর্যাদা কেনে। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দৃশ্যমান প্রমাণ দেখাতে চায়। এই সমাজে তাই জরুরি প্রশ্ন হলো— কত কম আড়ম্বর নিয়েও মানুষ বাঁচতে পারে? আর কত বেশি পাওয়ার পরও সে অশান্ত থাকে?

এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের ভোগবাদী সভ্যতা দিতে চায় না। কারণ আমাদের অর্থনীতি অনেকাংশে দাঁড়িয়ে আছে মানুষের অসন্তুষ্টির ওপর। আপনার যা আছে, সেটি যথেষ্ট নয়— এই বোধ তৈরি করতে পারলেই নতুন পণ্য বিক্রি করা যায়। তাই ডায়োজেনিসের দারিদ্র্যকে শুধু দারিদ্র্য হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল প্রয়োজন কমিয়ে আনার ক্ষমতা।

আমাদের প্রয়োজন বিশেষ এক শিক্ষাগ্রহণ। সেটি হলো— সব কিছু পাওয়ার স্বাধীনতার চেয়ে কিছু জিনিস না চাওয়ার স্বাধীনতা বড়। তবে ডায়োজেনিসের গল্পের সবচেয়ে ধারালো অংশটি এখনো বলিনি।

এক দিন অ্যারিস্টিপাস তাকে দেখলেন পথের পাশে বসে রুটি ও শাক খাচ্ছেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বললেন, রাজাকে তোষামোদ করলে আজ আর শুধু শাক-রুটি খেতে হতো না।

ডায়োজেনিস বললেন, ‘আর আপনি যদি শাক দিয়ে রুটি খাওয়া শিখতেন, তাহলে রাজাকে তোষামোদ করে চলতে হতো না।’

এই একটি বাক্যের মধ্যে দুই জীবনদর্শনের সংঘর্ষ স্পষ্ট। একজন বলছেন, আরো পাওয়ার জন্য ক্ষমতার কাছে যাও। অন্যজন বলছেন, কম চাওয়া শিখলে ক্ষমতার কাছে যেতে হবে না।

সমকালীন সমাজে এই দ্বন্দ্বটি কি গরহাজির?

আমাদের চার পাশে এমন কত মানুষ আছেন, যাদের প্রতিভা আছে কিন্তু স্বাধীনতা নেই। জ্ঞান আছে কিন্তু সাহস নেই। যোগ্যতা আছে কিন্তু নিজের অবস্থান ধরে রাখার শক্তি নেই। কারণ তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় এত বেড়ে গেছে যে, সত্য বলার মূল্য তারা দিতে পারেন না।

এখানে এসে বুঝতে পারব ডায়োজেনিসের ‘কুকুর’ পরিচয়ের রাজনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য। তিনি সামাজিক ভণ্ডামিকে কামড়াতেন। কিন্তু সেই কামড়ের লক্ষ্য ছিল মানুষকে জাগানো। বন্ধুকে কামড়ানোর এ ধারণাটি আজ আমাদের জনজীবনেও প্রয়োজন। প্রয়োজন এমন সমালোচনার, যার ভেতরে বিদ্বেষ নয়, আছে সংশোধনের আকাঙ্ক্ষা; প্রতিপক্ষকে ছোট করার তাড়না নয়, আছে সত্যকে স্পষ্ট করার দায়।

কিন্তু আমাদের সময়ে সমালোচনারও একটি বাজার তৈরি হয়েছে। কেউ সত্যিই সংশোধনের জন্য সমালোচনা করেন, কেউ নিজের জনপ্রিয়তার জন্য। কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, কেউ দাঁড়ানোর ভঙ্গিটিকেই পণ্য বানিয়ে ফেলেন। ফলে প্রশ্ন জাগে, যে সত্য বলার জন্য পপুলিজমের অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল, তার সত্যও কি এক দিন দরকষাকষির পণ্যে পরিণত হয় না?

ডায়োজেনিসের প্রশ্নগুলো তাই আজও আমাদের সামনে হাজির হয়। আমরা কি নিজের প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ করি, নাকি প্রয়োজনই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে? আমরা কি ক্ষমতার কাছে যাই নিজের কথা বলার জন্য, নাকি নিজের সুবিধার জন্য? আমরা কি বন্ধুকে সত্য বলি, নাকি তার মন রক্ষা করি?

ডায়োজেনিস বেঁচে থাকলে আজ হয়তো বলতেন, কুকুরের মতো বিশ্বস্ত হও; কিন্তু কারো দরজার সামনে বসে থাকা পোষা প্রাণী হয়ে যেও না। পপুলিজম ও ক্ষমতার দরজা যত বড়ই হোক, তার কাছে নিজের মেরুদণ্ড বন্ধক রেখো না।

এখানে এসে স্বাধীনতার একটি মৌলিক সূত্র তৈরি হয়। প্রয়োজনের ওপর কর্তৃত্ব স্বাধীনতাকে গভীর করে। আকাঙ্ক্ষার ওপর কর্তৃত্ব স্বাধীনতাকে স্থায়ী করে। আর সত্যের প্রতি দায় স্বাধীনতাকে বানায় নৈতিক। এ তিনটির কোনো একটি অনুপস্থিত হলে স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে।

তাই স্বাধীন মানুষের যা আছে, তা তাকে নিজের বিবেকের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করে না। সম্পদ তার থাকতে পারে; কিন্তু সম্পদ তার বিবেকের মালিক নয়। ক্ষমতা তার কাছে আসতে পারে; কিন্তু ক্ষমতার স্বীকৃতি তার সত্যের মাপকাঠি নয়। সমাজ তাকে সম্মান দিতে পারে, আবার প্রত্যাখ্যানও করতে পারে; কিন্তু মানুষের আত্মমূল্য যেন এর সাথে ওঠানামা না করে।

লেখক : কবি, গবেষক

72.alhafij@gmail.com