স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খুব বেশি সময় বাকি নেই। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধন, প্রশাসনিক প্রস্তুতির এবং অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

এই নির্বাচন সামনে রেখে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ফিরে আসার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। বিগত ১৬-১৭ বছর দেশবাসীকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনের পাশাপাশি দুর্নীতি আর ব্যাংক-বীমা লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল তারা। সর্বশেষ রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে (জাতিসঙ্ঘের হিসাবে এক হাজার ৪০০) নাগরিককে হত্যা করেছে। ২০ সহস্রাধিক নারী-শিশু-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে আহত করা হয়েছে। চার শতাধিক মানুষকে অঙ্গহানি করার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক দলটির নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে নেমে আসে। দেশবাসীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে দেয়। যা বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করেছে।

ইতিহাস নিয়ে যারা ন্যূনতম ঘাঁটাঘাঁটি করেন তারা অবগত আছেন, স্বাধীনতা-উত্তর ১৯৭২ থেকে ২৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী রক্ষীবাহিনীর শাসনের সময়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কথা এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কারণ নেই। দেশে এমন কিছু ঘটেনি যে আওয়ামী সরকারের সময় গুম, খুন, গায়েবি মামলা ও অত্যাচার-নির্যাতনের কাহিনী ভুলে দেশবাসী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্বাগত জানাবে।

তা ছাড়া প্রায় দুই বছর ধরে দলীয় প্রধানসহ দলটির অধিকাংশ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী পলাতক। অনেকে কারাগারে। এই সময়ের মধ্যে নেই তাদের কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এ অবস্থায় মাঝে মধ্যে কিছু বুদ্ধিজীবীর আলোচনায় ‘রিফাইনড আওয়ামী লীগের’ কথা শোনা যায়; কিন্তু এই রিফাইনড আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কারা আসছেন, আর এতে শেখ হাসিনার সম্মতি আছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ এখন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ভাবনায় আওয়ামী লীগ মানে শেখ হাসিনা।

তা ছাড়া তিনি যে পদ-পদবি ছেড়ে দেবেন এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। যদিও তিনি মাঝে মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে তার অডিও বা বিবৃতি প্রচার করে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আগের মতোই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচারের কাহিনী তুলে ধরে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি-ধমকি দেন। তবে শেখ হাসিনার এই প্রচারণায় মাঠপর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী এই ধারণা পোষণ করছেন— কোনো বিদেশী শক্তি শিগগিরই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসতে সাহায্য করবে। রাতারাতি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তাদেরকে আবারো ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে— যা বাস্তবসম্মত নয়।

লেখক : আইনজীবী