ছোট হচ্ছে এসএ গেমসের পরিসর

Printed Edition

- গেমস নেমে আসতে পারে ১০ ডিসিপ্লিনে

- ২০২৮ থেকে প্রতি বছরই গেমস করার প্রস্তাব

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া সাফ গেমস নিয়মিতই ছিল ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার পর সে বছর পাকিস্তানে আর হয়নি এসএ গেমস। কারণ তখন পাকিস্তান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রের প্রবল চাপের মুখে। পাকিস্তানকে ঘাঁটি ব্যবহার করেই আফগানিস্তানে তালেবানদের ওপর হামলা করে মার্কিন জোট। এরপর সেই যে এই গেমসর অনিয়মিত হওয়া তা আজও নিয়মিত হতে পারেনি। ২০০৪ সালে এই গেমসের নাম হয় সাউথ এশিয়ান গেমস। ১৯৮৪ সালে পাঁচ ডিসিপ্লিন নিয়ে শুরু হওয়া এই গেমস সর্বশেষ ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখারায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে গেমসে ছিল ২৬টি ডিসিপ্লিন। পরের এস এ গেমস ২০২১ সালে পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার ছোবলে তা মাঠে গড়ায়নি। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতাও পাকিস্তানকে এই গেমস গত চার বছরে করতে দেয়নি। অনেক দেনদরবারের পর এ বছর জানুয়ারিতে গেমসে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে সেটিও পারেনি। ফলে এখন তা পিছিয়ে আগামী বছর আয়োজন করার ঘোষনা দিয়েছে তারা। ডিসিপ্লিন ২৯টি। অবশ্য আগামীতে এত ডিসিপ্লিন নিয়ে আর গেমসটি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সদস্য দেশগুলো সম্প্রতি উজবেকিস্তানে সভা করে প্রস্তাব দেয় ২০২৭ এরপর যে গেমসগুলো হবে সেখানে ১০টি করে ডিসিপ্লিন থাকবে।

১০ ডিসিপ্লিন নিয়ে গেমস করার পাশাপাশি আরেকটি প্রস্তাবও দেয়া হয়। আর তা হলো প্রতি বছরই এই গেমস আয়োজন। অর্থাৎ ২০২৮ সালে একটি দেশ ১০ ডিসিপ্লিন নিয়ে গেমস করবে। পরের বছর অন্য দেশে অন্য ১০ ডিসিপ্লিন নিয়ে হবে গেমস। সভায় ভুটানের প্রতিনিধি এই প্রস্তাব দেন। তাতে সায় অন্য দেশগুলোর। জানান সভায় উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোয়াবদুর রহমান রানা।

এভাবে প্রতি বছর গেমস করা এবং এর ডিসিপ্লিনের সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার নেপথ্য কয়েকটি। এক, এমনিতেই দুই দেশে সফর নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে আপত্তি। সে সাথে সব দেশের পক্ষে এক সাথে ২৮-২৯টি ডিসিপ্লিন নিয়ে গেমস করা সম্ভব নয়। এই কারনে এখন পর্যন্ত ভুটান ও মালদ্বীপ সাফ গেমস বা এই শতাব্দীতে নাম পাল্টিয়ে হওয়া এসএ গেমসের হোস্ট হতে পারেনি। তাই তাদের সুযোগ দিতেও গেমসে নতুন আঙ্গিকে করার প্রস্তাব। রানা জানান, এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়াতে। সেখানে এই প্রস্তাব পাস হলেই নতুন রূপ পাবে এসএ গেমস।

এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার এই গেমস আয়োজন করতে পেরেছিল পাকিস্তান। তা ১৯৮৯ ও ২০০৪ সালে। এরপর যেভাবে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল তাই তাদের আগামী বছর এই গেমস আয়োজন নিয়েও সন্দেহ পোষণ করে সদস্য দেশগুলো। তাই উজবেকিস্তানের ওই সভায় পাকিস্তান অলিম্পিক কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তা প্রতিশ্রুতি দাতা হিসেবে পাকিস্তানের ক্রীড়া মন্ত্রীকেও সভায় উপস্থিত করান। তখন ক্রীড়ামন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তান সরকারের সবুজ সঙ্কেত মিলেছে আগামী বছর সফলভাবে গেমসটি করার ব্যাপারে।

২৮/২৯টি ডিসিপ্লিন নিয়ে এসএ গেমস করাটা এখন যেকোনো দেশের জন্যই বিশাল বাধা। কারণ বড় সড় বাজেটের একটি বিষয় আছে। এই অর্থ সঙ্কটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা, নেপাল। পাকিস্তানও এই অর্থ সঙ্কটে এত দিন করতে পারছিল না গেমসে। ভুটানের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের পক্ষে অর্থ জোগাড় করা কঠিন কিছু নয়। বড় আকারে গেমস করার মতো অবকাঠামো নেই তাদের। মালদ্বীপও তাই। যে কারণে সব মিলিয়েই এসএ গেমস নতুন রূপে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।