রাজশাহীতে বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে নিহত ১
Printed Edition
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর পবা উপজেলায় বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাসুয়ার কোপে মো: ইদ্রিস আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভাই আবু বকর সিদ্দিক ও ভাতিজা মো: আলফাজ (৩৫) আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইদ্রিস আলী ওই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে জমিতে ধান ও পাট নিয়ে কাজ করছিলেন আবু বকর সিদ্দিক ও তার ছেলে আলফাজ। এ সময় আলফাজ তার বাবার সামনে বিড়ি ধরালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলেকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার ও মেরাজ তাদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবারো বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস আলী তাদের থামাতে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তখন আলফাজের হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে তার বাবা আবু বকর সিদ্দিক ও চাচা ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার বলেন, আমি তাদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলাম। পরে আবার মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস চাচা তাদের থামাতে এগিয়ে যান। তখনই হাসুয়ার আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
স্থানীয়রা আহত ইদ্রিস আলী ও আবু বকর সিদ্দিককে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৮টায় ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আলফাজ গত রোববার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বাড়ি ফেরেন। তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। বিষয়গুলো পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হাসুয়ার আঘাতে ইদ্রিস আলী নিহত হয়েছেন এবং আরো একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।