প্রথম দিনে দেশে ফিরলেন প্রায় ৫ হাজার হাজী

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
Hajj-Return

পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজীরা। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। প্রথম দিনে চার হাজার ৯০৪ জন হাজী দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ফিরতি ফ্লাইটের প্রথম দিনে সৌদির স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম ফ্লাইটটি ছেড়ে আসে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে ৩৬৯ জন হাজী নিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ‘এসভি-৩৮০৩’ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজে হাজীদের স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া। তিনি ফুল দিয়ে প্রথম ফিরতি ফ্লাইটের হাজীদের বরণ করে নেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

এ দিন মোট ১২টি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন হাজীরা। এ ১২টি ফ্লাইটের মধ্যে ফ্লাইনাসের ছয়টি, সাউদিয়ার পাঁচটি ও বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট রয়েছে। আগামী ১০ জুলাই হজের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে। মোট ২২২টি ফিরতি ফ্লাইটে হাজীরা দেশে ফিরবেন।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৬ হাজার ৯৫৮ জন হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে ১৯ জন সৌদি আরবে গিয়ে মারা গেছেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ২৯ এপ্রিল আর শেষ ফ্লাইট ছিল ১ জুন। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় গত ৪ জুন। সেদিন হাজীরা মিনায় পৌঁছান। পরদিন ৫ জুন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন এবং সেখানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ৬ জুন পশু কোরবানি ও শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করেন হাজীরা। পরে হাজীরা বিদায়ী তাওয়াফ ও সাঈ করে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। এ বছর দেশের হাজীদের মৃত্যু ও অসুস্থতা কম দেখা দিয়েছে। সৌদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯০ জন। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৩ জন। গত বছর হজে গিয়ে মোট ৬৫ জন বাংলাদেশী মারা যান।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি হজ মৌসুমে তাপজনিত রোগের ঘটনা গত বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তাপজনিত রোগের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রোগীদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বা অস্বাভাবিক সংখ্যা দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের হজ মৌসুমে মক্কায় তাপমাত্রা ৫১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। সে সময় অন্তত এক হাজার ৩০১ জন হাজীপ্রাণ হারান এবং দুই হাজার ৭৬৪ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। এই পরিস্থিতির পর হজ মৌসুমে তাপজনিত রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সৌদি আরব।