বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে

হারের বৃত্ত ভাঙার লড়াই নাকি জিম্বাবুয়ের আধিপত্য

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কয়েক দিন আগেও দৃশ্যপটটা ছিল একেবারে ভিন্ন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশ কত ব্যবধানে সিরিজ জিতবে। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই হিসাবই বদলে গেছে। প্রথমে টেস্টে ইনিংস ও ৮৪ রানের লজ্জার হার, এরপর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ২৫ রানের পরাজয়। আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর জিম্বাবুয়ে এখন সিরিজ জয়ের দুয়ারে, আর বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। আজ হারারেতে বলো ১.৩০ মিনিটে দ্বিতীয় ওয়ানডে তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি টাইগারদের চরিত্র, সামর্থ্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতারও পরীক্ষা।

পরিসংখ্যান এখনো বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয়ের পাল্লাই ভারী। দীর্ঘ সময় ধরেই এই সংস্করণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আধিপত্য ধরে রেখেছে টাইগাররা। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যেন সেই ইতিহাসকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কারণ ক্রিকেটে অতীত আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, ম্যাচ জেতাতে পারে না।

প্রথম ওয়ানডেতে বোলারদের চেনা ছন্দের মাত্র ১৪১ রানে জিম্বাবুয়েখে আটকে দিলেও ব্যাটাররা পারেনি এই অল্প রান চেস করতে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা ছিল ব্যাটিং। শুরু থেকেই ছন্দপতন। মাঝে একটু নুরুল হাসান সোহান ও তৌহিদ হৃদয়ের মাঝারি মানের জুটি। মনে হয়েছিল তারা শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে খেলছে। স্পিরিট বলতে যে ব্যাপারটা তা মোটেই ছিল না। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেয়ার মতো ইনিংসও আসেনি। অন্য দিকে জিম্বাবুয়ে ছোট ছোট জুটির ওপর ভর করে প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ দাঁড় করায়। পরে তাদের বোলাররা নিখুঁত পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে চাপে রাখেন। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রেখে নিয়মিত উইকেট তুলে নেয়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের শক্তির জায়গা নিঃসন্দেহে তাদের অভিজ্ঞ ব্যাটিং ইউনিট ও বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ। নতুন বলে দ্রুত উইকেট নেয়া এবং মাঝের ওভারে স্পিনারদের নিয়ন্ত্রণ এই দু’টি দিক ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে। একই সাথে ওপেনিং জুটির দায়িত্বও থাকবে অনেক বেশি। ভালো শুরু পেলে মধ্যক্রম নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবে।

অন্য দিকে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এখন তাদের বিশ্বাস। টেস্টে বড় জয় এবং প্রথম ওয়ানডের সাফল্য দলটিকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রেখেছে। নিজেদের মাঠের কন্ডিশন, শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং এবং সুযোগ কাজে লাগানোর মানসিকতা তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত এই প্রেরণাও থাকবে তাদের সাথে।

বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটি তাই খুব সহজ জিততেই হবে। হার মানেই সিরিজ হাতছাড়া, সাথে বাড়বে সমালোচনার ঝড়। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে এখনো এগিয়ে বাংলাদেশ। কিন্তু গত কয়েক দিনে জিম্বাবুয়ে প্রমাণ করেছে, সাহস, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে পরিসংখ্যানকে হার মানানো যায়। এখন দেখার বিষয়, টাইগাররা কি নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায়, নাকি জিম্বাবুয়ে আরেকটি জয় দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।