সেমিফাইনালে জোকোভিচ

Printed Edition
khela-4
সেমিফাইনালে জোকোভিচ

ক্রীড়া ডেস্ক

রেকর্ড গড়া যেন তার অভ্যাস। বয়স ৩৯ হলেও লড়াই করার মানসিকতা এখনো অটুট। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে কানাডার ফেলিক্স অসারকে হারিয়ে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠেছেন সার্বিয়ার কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। শেষ চারে তার প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব এক নম্বর জানিক সিনার।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যারাথন ম্যাচে জোকোভিচ ৭-৬ (১২-১০), ৩-৬, ৬-৩, ৬-৭ (৪-৭), ৭-৬ (১০-৪) সেটে জয় তুলে নেন। এই জয়ে টানা রেকর্ড ১৫তমবারের মতো উইম্বলডনের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন তিনি। একই সাথে ক্যারিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ডসø্যাম একক শিরোপার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখলেন, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডসø্যামজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে একক রেকর্ড এনে দিতে পারে।

ম্যাচের শুরুতেই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন জোকোভিচ। প্রথম সেটে ৪-৪ অবস্থায় বাঁ পায়ের নিচের অংশে চোট পেয়ে তিনি চিকিৎসকের সহায়তা চান। চিকিৎসা ও মালিশের পর কোর্টে ফিরে আবারো নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পান। প্রথম সেটের নাটকীয় টাইব্রেকে প্রতিপক্ষের একাধিক সেট পয়েন্ট বাঁচিয়ে এগিয়ে যান অভিজ্ঞ এই সার্বিয়ান।

দ্বিতীয় সেটে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান অজার-আলিয়াসিম। এরপর তৃতীয় সেট জিতে আবারো এগিয়ে যান জোকোভিচ। তবে চতুর্থ সেটের টাইব্রেক জিতে ম্যাচকে নির্ধারণী পঞ্চম সেটে নিয়ে যান কানাডিয়ান তারকা। শেষ সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভ ধরে রাখায় ম্যাচ গড়ায় সুপার টাইব্রেকে। সেখানে অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে একের পর এক পয়েন্ট জিতে জয় নিশ্চিত করেন জোকোভিচ।

ম্যাচ চলাকালে আরেকটি বিতর্কও তৈরি হয়। দ্বিতীয় সেট শেষে কোর্টের ছাদ বন্ধ করার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জোকোভিচ। টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের সাথে এ নিয়ে তার বাক্যবিনিময়ও হয়।

জয়ের পর ক্লান্ত কিন্তু উচ্ছ্বসিত জোকোভিচ বলেন, ‘র‌্যাকেট আর অদম্য হৃদয় দিয়েই আমি এই ম্যাচ জিতেছি। এমন মুহূর্তগুলোর জন্যই এখনো টেনিস খেলি। শরীর আগামীকাল কেমন থাকবে জানি না, তবে জয় পাওয়ায় আমি আনন্দিত।’ এ দিকে সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ সিনারও সহজ জয় পেয়েছেন। ইতালিয়ান এই তারকা জার্মানির জ্যান লেনার্ডকে ৭-৫, ৭-৬ (৭-৪), ৬-৩ সেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে শেষ চার রাউন্ডে এখনো কোনো সেট হারেননি তিনি।

গত বছর উইম্বলডনের সেমিফাইনালে সিনারের কাছে হেরেছিলেন জোকোভিচ। তবে চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ন ওপেনের সেমিফাইনালে সেই হারের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। ফলে এবারো দুই প্রজন্মের দুই তারকার লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

দীর্ঘতম ম্যাচ খেলে সেমিফাইনালে ওঠায় জোকোভিচের শারীরিক সক্ষমতা এখন বড় প্রশ্ন। অন্য দিকে তুলনামূলক কম সময় কোর্টে কাটিয়ে সতেজ অবস্থায় রয়েছেন সিনার। তবু বয়সকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানানো জোকোভিচ আরো একবার প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তাকে কখনোই সমীকরণের বাইরে রাখা যায় না।