বিশ্বকাপে প্রিমিয়ার লিগের দাপট

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ফুটবলাররা এসেছেন বিশ্বের ৭৫টি ভিন্ন ঘরোয়া লিগ থেকে। ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্তরের লিগ থেকে শুরু করে আয়ারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া কিংবা কোস্টারিকার শীর্ষ লিগ সব জায়গার খেলোয়াড়ই এবারের আসরে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে- একটিই লিগ ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ।

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর হয়ে খেলা ১৫৪ জন ফুটবলার বিশ্বকাপের বিভিন্ন দলে জায়গা পান, যা অন্য যেকোনো লিগের চেয়ে অনেক বেশি। এই খেলোয়াড়রা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৫০০-এর বেশি ম্যাচে অংশ নিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত এসে গোল, অ্যাসিস্ট এবং রক্ষণসব ক্ষেত্রেই প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়রা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখেছেন।

গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি, যিনি খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে। তার পেছনে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে (লা লিগা), হালান্ড (প্রিমিয়ার লিগ) ও হ্যারি কেন (বুন্দেসলিগা)। তবে সামগ্রিক পরিসংখ্যানে অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে প্রিমিয়ার লিগ। এই লিগে খেলা ফুটবলাররা এখন পর্যন্ত ৬৭টি গোল করেছেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লা লিগার খেলোয়াড়দের গোলসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।

এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন কাই হাভার্ট ইসমাইল সার, কোটি গাকপো। ম্যাথিউ চুনহা,ও ব্রায়ান ব্রবিদের মতো ফুটবলাররা। তাদের সর্বশেষ দলবদলের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৬ কোটি পাউন্ড। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে প্রিমিয়ার লিগের ১৭ জন খেলোয়াড় অন্তত দু’টি করে গোল করেছেন।

সৃজনশীল খেলাতেও একই চিত্র। এখন পর্যন্ত তিন বা তার বেশি অ্যাসিস্ট করা ৯ জন ফুটবলারের মধ্যে পাঁচজনই প্রিমিয়ার লিগে খেলেন। সব মিলিয়ে অ্যাসিস্টের সংখ্যায়ও অন্য সব লিগকে ছাড়িয়ে গেছে ইংল্যান্ডের শীর্ষ প্রতিযোগিতা।

ব্রুনো গিমারায়েস চারটি অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন। এ ছাড়া বুইরা সাকা মার্টিন ওডেগার্ড, আলেকজান্ডার ইসাক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে উইর্টজ ও ইসাককে দলে নিতে লিভারপুরল বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, যা প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক সামর্থ্যরেই প্রতিফলন। গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্সেও এগিয়ে প্রিমিয়ার লিগ। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও এলিসন বেকার নিজ নিজ দলের হয়ে একাধিক ক্লিন শিট রেখেছেন। বার্ট ভেরব্রুখেনও নেদারল্যান্ডসের হয়ে একটি ক্লিন শিট যোগ করেছেন। যদিও ক্লিন শিটের সংখ্যায় প্রিমিয়ার লিগের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকোর লিগা ম্যাক্স, তবুও সামগ্রিক প্রভাবের বিচারে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগই সবচেয়ে এগিয়ে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে গোল করা, গোল বানানো কিংবা গোল ঠেকানোসব ক্ষেত্রেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর বিপুল আর্থিক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর সেটিই এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।