আগ্রাসনের ধ্বংসাত্মক জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
Printed Edition
তাসনিম নিউজ এজেন্সি
ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব হবে দ্রুত, নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক। ইরানের খাতামুলআম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার এমন মন্তব্য করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হামলার হুমকির প্রতিক্রিয়ায় মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালোভাবেই জানে যেকোনো ভুল হিসাবের পরিণতি কী হতে পারে।
তিনি বলেন, ইরানি জাতির ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে এবং প্রথম ধাপেই যুক্তরাষ্ট্রের সবস্বার্থ, ঘাঁটি ও প্রভাবকেন্দ্র ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য বৈধ, নিশ্চিত ও সহজলভ্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তিনি আরা বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি বাস্তব, সক্রিয় এবং অটল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের দৃঢ়সমর্থনে ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর শক্তি বিশ্বাস, জাতীয় দৃঢ়তা ও দেশীয় সক্ষমতা থেকে জন্ম নেয়া- যা শুধু শত্রুর কৌশলগত হিসাব-নিকাশই ভেঙে দেয়নি বরং মাঠপর্যায়ে বহুবার বাস্তব ও অস্বীকারযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই জাতির শত্রুরা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এর পরিণতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আরো বলেন, ইরান বারবার স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে- তারা কখনোই যুদ্ধ শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে ইরানি জাতির নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন, হুমকি, হামলা বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব তারা দ্রুত, দৃঢ় ও কঠোরভাবে দেবে।
‘হিট অ্যান্ড রান’-এর যুগ চিরতরে শেষ হয়ে গেছে- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনব্যবস্থা যা কল্পনাও করতে পারে না, তার চেয়েও দ্রুত, নিখুঁত ও ভয়াবহ।
ইরানের দিকে যাচ্ছে যুদ্ধজাহাজের বহর : ট্রাম্প
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স জানায়, তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। একই সাথে তিনি ইরানকে আবাররা সতর্ক করেন বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা থেকে বিরত থাকতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর সম্ভাব্য ইরানি হামলা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই মোতায়েনের ফলে ট্রাম্পের হাতে আরো বিকল্প থাকছে-এক দিকে অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা, অন্য দিকে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর প্রয়োজনে আরো সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতা বাড়ানো।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বনেতাদের সাথে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে, শুধু সতর্কতার জন্য, আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। আরেক সময় তিনি বলেন, আমাদের একটি নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে এবং হয়তো আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না। গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধ জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করে, যখন ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।