কিউবায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অবনতির ফলে পেটের রোগ ও ডায়রিয়া বেড়েছে, এ কারণে দেশটিতে বসবাস করা নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে হাভানার মার্কিন দূতাবাস।
শুক্রবার জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়, পানি ও জ্বালানি অবকাঠামোর ধারাবাহিক অবনতির সাথে কিউবায় ডায়রিয়া জনিত অসুস্থতা বেড়েছে। অবরোধের ফলে পানি সরবরাহ, খাদ্য সংরক্ষণ এবং খাবারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবনতি হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ আটকে রাখার মধ্যেই এ সতর্কতা জারি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন নয় মাস আগে কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ আরোপ করে, এর ফলে দেশটিতে লোডশেডিং বেড়েছে এবং বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খাবার সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার গবেষকরা বলেন, গত আগস্টে জাতিসংঘের গবেষকরা সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ায় কিউবায় নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে এবং মার্কিন জ্বালানি অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
গবেষকরা আরো বলেন, কিউবানদের স্বাস্থ্য, জীবন, খাদ্য ও উন্নয়নের অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে, এতে মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ফলে, কিউবার সরকারে পরিবর্তন করতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকে কিউবার সরকার পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।
কিউবার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা কয়েক মাস ধরে কয়েক দিনব্যাপী ডায়রিয়া, জ্বর ও শরীর ব্যথার মতো অসুস্থতার কথা জানিয়ে আসছেন।
জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবায় লোডশেডিং হচ্ছে নিয়মিত, এর ফলে এসি ও ফ্যান ছাড়া তাদের বসবাস অসম্ভব হয়ে পরেছে এবং খাবার সংরক্ষণ ব্যবস্থা অচল হয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় মার্কিন দূতাবাস কিউবার বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এমন পচনশীল খাবার খেতে নিষেদ করেছেন।
অনুবাদ: রবিন শেখ।
নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।