এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট খরায় পানামা খালে শুক্রবার থেকে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমানো শুরু হয়েছে।
পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালের পানির প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত দুটি কৃত্রিম হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় এ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এই পানিপথে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের অনুমোদিত সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিদিন ৩৬টি থেকে কমিয়ে ৩২টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে।
এল নিনোর কারণে পানামা সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া এই আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বাড়ছে।
এ বছরের এল নিনো গত চার দশকে তুলনামূলক রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এল নিনো এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে মধ্য আমেরিকায় এরই মধ্যে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে হন্ডুরাস ও এল সালভাদরও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ পানামা খালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
পানির সঙ্কট মোকাবেলায় পানামা খাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আরো কিছু সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে— বড় জাহাজগুলোর পানিতে নিমজ্জিত অংশের সর্বোচ্চ গভীরতা, অর্থাৎ ‘ড্রাফট’ কমিয়ে দেয়াও রয়েছে।
২০২৩ সালেও এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে ২২টিতে নামাতে হয়েছিল।
সূত্র : এএফপি/বাসস