বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়ছে
Printed Edition
খালিদ সাইফুল্লাহ
বিশ্ব ইজতেমা ও ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাকরাইল মসজিদের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাবলিগী জামাতের অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপ- শূরায়ি নেজামের (মাওলানা জোবায়ের) অনুসারী ও ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভির (ওয়াসিফুল ইসলাম) সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আগামী বছরের ইজতেমার মাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং ঢাকার কাকরাইল মসজিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ঘিরে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে তাবলিগে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আগামী ইজতেমার তারিখ ঘিরে টানাপড়েন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এতে বলা হয়, এবার বাংলাদেশ শূরায়ি নেজামের অধীনে দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি। আর দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি। তবে দুই পক্ষ আলাদাভাবে মাঠের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সা’দ অনুসারীরা দাবি করছেন, তাদের আমিরের অংশ নেয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইজতেমার প্রথম পর্বের সুবিধা তাদের দেয়া উচিত। অন্য দিকে শূরায়ি নেজামের অনুসারীরা কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, মাওলানা সা’দ ও তার ভক্তদের কোনোভাবেই প্রথম পর্বে তো দূরের কথা, গাজীপুরের ইজতেমা ময়দানেই মূল ভূমিকায় নামতে দেয়া হবে না। তারিখ নির্ধারণ ও দুই পর্বের ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় জটিলতা আরো বাড়ছে।
কাকরাইল মসজিদের আধিপত্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ ঢাকার কাকরাইল মসজিদের অবস্থান নিয়ে দুই গ্রুপের বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বর্তমানে কাকরাইলে নির্দিষ্ট সময় পরপর দুই গ্রুপ অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও শূরায়ি নেজামের অনুসারীরা চান স্থায়ীভাবে মসজিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। অন্য দিকে সা’দ অনুসারীদের অভিযোগ- তাদের প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে এবং ইবাদত-বন্দেগিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দুই পক্ষই কাকরাইল মসজিদ ও তার আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত জমায়েত করার ঘোষণা দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস
উভয় পক্ষের মধ্যকার এই বৈরিতা নতুন নয়। এর আগে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জোবায়ের ও সা’দ অনুসারীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনজন নিহত এবং শতাধিক অনুসারী গুরুতর আহত হন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে ঢাকাসহ দেশের একাধিক জেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অতীতের সেই সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া এবং ক্ষোভ জিইয়ে থাকায় সামান্য উসকানিতে আবারো বড় ধরনের অপ্রীতিজনক ঘটনা ঘটার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
শূরায়ি নেজামের অনুসারী-আলেমদের ৫ দফা দাবি
চলমান এ চরম উত্তেজনার মধ্যেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও তাবলিগী মূলধারা রক্ষার তাগিদে গতকাল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে শূরায়ি নেজামের অনুসারী ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেফাজতের আমির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলন থেকে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল ও সা’দপন্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হেফাজত আমির ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।