ইসলামী জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটাবে বইমেলা : উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, সব বয়সী মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণে গড়ে ওঠে এবং হজরত মুহাম্মদ সা:-এর পবিত্র জীবনাদর্শ ও ইসলামের প্রকৃত বার্তা সবার কাছে পৌঁছে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই মেলা সহায়ক হবে।

গতকাল বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে ‘মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ এ মেলার আয়োজন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র কুরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিগত ১৭ বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, পবিত্র কুরআন-হাদিসের বই প্রকাশের কাজ কখনো বন্ধ হবে না।

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সঙ্কট প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৮ বছরে এই খাতগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং এগুলো পুনর্গঠনে বর্তমান সরকারকে সময় দিতে হবে।

বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩৪১ জন হাজির অব্যয়িত মোট চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে বর্তমান সরকার এক নতুন নজির স্থাপন করেছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বছর হজের বিমানভাড়া এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ২০২৩ সালেও ছিল এক লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর অন্য কোনো সরকার উদ্যোগ না নিলেও তিনি দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনতে ইতোমধ্যেই ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবায়েতকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও বর্তমান সরকার ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশ গঠনে ভূমিকা উল্লেখ করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আপসহীন নেত্রী হিসেবে অভিহিত করে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ, এইচ, এম কামরুজ্জামান ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান। ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশের জন্য লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। দেশী-বিদেশী মোট ২০৬টি স্টল নিয়ে আয়োজিত এই মেলা ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।