দুর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদ
সন্দ্বীপের সাবেক এমপি মিতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্দ্বীপের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল দুদকের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ বাদি হয়ে এ মামলা করেন। এতে মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি মিতার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক প্রধান কার্যালয়। পরে অভিযোগ তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাহফুজুর রহমান ২০০২-০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী-ভাতা, গৃহসম্পত্তি ভাড়া, শেয়ার লভ্যাংশ, ঋণ, গাড়ি বিক্রি ও অন্যান্য উৎস মিলিয়ে মোট ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আয় প্রদর্শন করেন। তবে ব্যবসা ও মৎস্য খাতে প্রদর্শিত বিপুল অঙ্কের আয়ের পক্ষে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণাদি দাখিল করতে পারেননি। এ ছাড়া স্ত্রীর কাছ থেকে তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নেয়ার তথ্য দেখানো হলেও এর বৈধ উৎসের প্রমাণ মেলেনি।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রদর্শিত ওই অর্থ বৈধ আয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় একই সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা। সে হিসাবে তার বৈধ সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৭ টাকা। অনুসন্ধানে তার নামে দুই কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর এবং আট কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বৈধ সঞ্চয়ের চেয়ে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে দুদক জানায়।