মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ফেরত পাঠানো শুরু
Printed Edition
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
ইরানের সাথে সামরিক সংঘাতের মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সরিয়ে নেয়া মার্কিন কূটনীতিকদের পুনরায় নিজ নিজ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ফেরত পাঠানো শুরু করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো বৃহৎ সামরিক অভিযানে জড়ানোর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নেই।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক খবরে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্র দেশের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ওয়াশিংটন আপতত ইরানের ওপর সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে অর্থনৈতিক অবরোধ কঠোর করার কৌশল গ্রহণ করেছে। ফলে বিগত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে আসা মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারগুলোর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটছে। আরেক মার্কিন সাময়িকী নিউ ইয়র্ক টাইমসের দেয়া বিবরণ অনুযায়ী, ইসরাইল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রথম ধাপে কর্মী ফেরানো হচ্ছে, যার সূচনা ঘটছে লেবানন থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জনবল পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য দিকে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে পূর্ণ মেয়াদের ৭৫ শতাংশ কর্মী কাজ পরিচালনা করবেন। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি পুরোপুরি না কমায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের পরিবারের যাতায়াতের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে; যা লেবানন ও ইরাকে আগে থেকেই জারি রয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্বের যৌথ সামরিক হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও স্থানীয় বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানলে বাহরাইন ও কুয়েতের মতো তুলনামূলক ছোট রাষ্ট্রগুলো সামরিক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সম্প্রতি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ধ্বংসক্ষমতা বিবেচনা করে পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি তুলে নেয়া বা স্থানান্তরের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন। অন্য দিকে জুন মাসে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবরেও জানানো হয়েছিল, সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ঘাঁটির স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চলতে পারে।