ওয়াশিংটন-সিউল অস্ত্র চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ পিয়ংইয়ংয়ের
Printed Edition
রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিক্রির সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি চরম হুমকি বিবেচনা করে এর বিপরীতে ‘জোরদার ও তাৎক্ষণিক’ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সাথে নতুন করে সংলাপে বসার ইচ্ছা ব্যক্ত করার আবহেই পিয়ংইয়ংয়ের এই জোরালো প্রতিক্রিয়া সামনে এলো। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াশিংটন আলোচনার প্রস্তাব দিলেও সেই টেবিলে বসতে পিয়ংইয়ংয়ের আগ্রহ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট জানান, সিউলের কাছে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের কৌশলগত ‘এআইএম-৯এক্স সাইডউইন্ডার’ ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী মনোভাব অপরিবর্তিত রয়েছে। অস্ত্র চালানের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টাকেও পিয়ংইয়ং কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই ধরনের তৎপরতা দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক অবকাঠামো অস্থিতিশীল করারই অংশ।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছর জুড়েই মার্কিন প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়াকে উচ্চমাত্রার প্রিসিশন-গাইডেড বোমা, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার সরবরাহের অনুমোদন দিয়ে সিউলকে সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের বর্ধিত সামরিক সখ্য উত্তর কোরিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে হুমকি তৈরি করেছে তা চোখ বুজে সহ্য করা হবে না। যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতিতে স্বীয় নিরাপত্তা বিধানে উত্তর কোরিয়া কঠোর, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও তাৎক্ষণিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।