দর্শনায় এক কাজীর হাতে ৯ ওয়ার্ড নিয়ে বিতর্ক
Printed Edition
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভায় নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, দায়িত্ব বণ্টনে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১২০ দিনের অস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন এবং সর্বশেষ দাপ্তরিক আদেশে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা থেকে গত ১২ এপ্রিল জারি করা এক আদেশে কাজী মতিয়ার রহমানকে পূর্বের দায়িত্বের পাশাপাশি ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। এর ফলে কার্যত পৌরসভার নিবন্ধন কার্যক্রমের বড় অংশ তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যদিও আদেশে দায়িত্বের মেয়াদ ১২০ দিন উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে একইভাবে অস্থায়ী দায়িত্ব নবায়নের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমান দায়িত্ব বণ্টন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা হাবিবুর রহমানের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বে আছেন মতিয়ার রহমান। অন্যদিকে ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইসমাইল হোসেন এবং ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাওলানা ওমর আলী সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক আদেশে বাস্তব দায়িত্বের বড় অংশ মতিয়ার রহমানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হওয়া এবং নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকার শর্ত থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শূন্য পদে নতুন নিয়োগ না দিয়ে দীর্ঘদিন অস্থায়ী দায়িত্ব বহাল রাখার বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বের অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আনিসুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি কখনো দায়িত্ব পালনে অপারগতার লিখিত আবেদন দেননি। অথচ তাকে অপারগ দেখিয়েই নতুন দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ জারি করা হয়েছে।