চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দর রাজস্ব : ২৫-২৬ অর্থবছর
রাজস্ব বেড়েছে ১২.৩৭ ঘাটতি ২০.৪৫ শতাংশ
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ১২.৩৭ শতাংশ বেশি। তবে প্রবৃদ্ধি হলেও সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হাজার ৮২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা (২০.৪৫%) কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিগত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়লেও মাত্র দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছেই আমদানির বিপরীতে সরকারের রাজস্ব বকেয়া পড়ে আছে ২৫ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) : প্রতিষ্ঠানটির কাছে কাস্টমসের বকেয়া ছিল ৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনে বিপিসি ৫৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করায় এখন বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়।
পেট্রোবাংলা : প্রতিষ্ঠানটির নিকট সরকারের সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে বারবার দাবিনামা পাঠিয়েও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এই খাত থেকে কোনো রাজস্ব আদায় করতে পারেনি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, রাষ্ট্রায়ত্তসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে ‘ডেফার্ড পেমেন্ট’ (বিলম্বে পরিশোধ) পদ্ধতিতে পণ্য খালাসের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ৪৯২ কোটি টাকা বকেয়া ছিল। বিদায়ী অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলো ৪২৩ কোটি টাকা পরিশোধ করায় এখন বকেয়া কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি টাকায়।
ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে আদায় : বিদায়ী অর্থবছরে বকেয়া পরিশোধকারী প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ নেভি (২৪০.৪৪ কোটি টাকা), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (১০৫.৬২ কোটি টাকা), সামিট এলএনজি (৩৭.২২ কোটি টাকা) ও বাংলাদেশ পুলিশ (২৫.৬৫ কোটি টাকা)।
শীর্ষ আমদানিকৃত পণ্যের রাজস্ব
খাতওয়ারি হিসেবে ‘টপ থার্টি’ (শীর্ষ ৩০) আমদানি পণ্যের মধ্যে একক মাসে ডিজেল আমদানি থেকে সর্বোচ্চ ৩১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রধান খাতের রাজস্ব আদায় নি¤œরূপ :
মোটর স্পিরিট অব এইচবিওসি থেকে আদায়কৃত রাজস্ব ৬১.৭৮ কোটি টাকা, সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ৩৯.২১ কোটি টাকা, গুঁড়া দুধ ৩৪.১৭ কোটি টাকা, ম্যান্ডারিন ও কমলালেবু জাতীয় ফল ২৮.৭৭ কোটি টাকা, ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) ২৪.২৬ কোটি টাকা, গ্রানুলেটেড স্ল্যাগ (লৌহ ও ইস্পাত শিল্প) ২১.২৭ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) শরীফ আল আমীন জানান, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ১২.৩৭% বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে। তবে বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব বকেয়া রয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ে বিশাল উল্লম্ফন, নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৫২.৩৯%
কাস্টমসের পাশাপাশি সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের আয়েও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এই অর্থবছরে বন্দরের আয়ে ২৩.৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট আয় হয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
ব্যয় ও নিট মুনাফার হিসাব : পরিচালন ব্যয় : সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বন্দরের পরিচালন খাতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ২৭৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৮০% কম)। আয়কর প্রদান : বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি কোষাগারে আয়কর বাবদ জমা দিয়েছে ৯৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা। নিট আয় : যাবতীয় ব্যয় ও কর বাদ দিয়ে বন্দরের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এটি আগের অর্থবছরের (২ হাজার ২২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা) তুলনায় ৫২.৩৯ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, এর আগের অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরের নিট আয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৯.০৫%। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিকে বন্দরের ট্যারিফ (শুল্ক ও চার্জ) বৃদ্ধি করার সুফল হিসেবেই এবার আয়ে এমন বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে।