জিমির সামনে দুই পথ : খেলা নাকি কমিটি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হকির মাঠে রাসেল মাহমুদ জিমি মানেই একসময় ছিল অন্যরকম এক আবেগ। লাল-সবুজ জার্সিতে তার স্টিকের ঝলক, লড়াকু মানসিকতা আর গোলের ক্ষুধা সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের হকির আইকন। অথচ সেই জিমিই গত দুই বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে। কারণ? তার নাকি বয়স হয়ে গেছে! বয়সের যুক্তিতে যে খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে রাখা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় সেই জিমিই এখন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) নতুন অ্যাডহক কমিটির সদস্য। এখানেই যেন শুরু হয়েছে নতুন নাটক। কারণ নিয়মের প্রশ্ন উঠেছে কমিটির সদস্য হয়ে জিমি কি জাতীয় দলে খেলতে পারবেন? নাকি খেলতে হলে আগে অবসর নিতে হবে?

জিমি পড়েছেন এক অদ্ভুত দোটানায়। এক দিকে মাঠের টান, অন্য দিকে প্রশাসনের চেয়ার। যে মাঠ তাকে পরিচিতি দিয়েছে, সেই মাঠেই ফিরতে চাইলে কি ছাড়তে হবে কমিটির পদ? আর যদি কমিটিতে থাকেন, তাহলে কি খেলোয়াড় জিমিকে বিদায় বলতে হবে? প্রশ্নটা শুধু জিমির নয়, প্রশ্নটা নিয়মেরও। কারণ অ্যাথলেটিকসে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শিরিন আক্তার একই সাথে ফেডারেশনের কমিটিতে আছেন, আবার মাঠেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাহলে হকিতে সমস্যা কোথায়? নিয়ম কি সবার জন্য সমান, নাকি খেলাভেদে তার ব্যাখ্যাও বদলে যায়? জিমি হয়তো এক দিন অবসর নেবেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তটা যেন তার নিজের হয়। জোর করে অবসর নয়, মাঠই ঠিক করুক রাসেল মাহমুদ জিমির স্টিক এখনো কতটা ঝনঝন করে!

জটিল সমীকরণে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) নতুন অ্যাডহক কমিটি। অবশ্য হকির জন্য এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। যুগ যুগ ধরে হকিতে এরকম ধারা অব্যাহত রয়েছে। আগে তো শুধু সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার নিয়ে বচসা-ষড়যন্ত্র-পরস্পর বিরোধী সমালোচনা হতো। এখন এটির ডালপালা ছড়িয়েছে। কোনো কিছুর গুরুত্ব বহন করে না। এমনি এমনিই ইস্যু তৈরি হয়ে যায়।

গতকাল ছিল হকির ২৯ সদস্যবিশিষ্ট নব্য অ্যাডহক কমিটির পরিচিতি সভা। অনেক নতুন মুখের পদচারণায় মুখরিত ছিল বাহফের সভাকক্ষ-করিডোর-সিঁড়ি-প্রবেশদ্বার। নতুনদের কেউ কেউ তো পরখ করে নিয়েছেন নিজেদের কক্ষ-বসার জায়গা-চেয়ার কেমন হবে।

জিমির সরাসরি উত্তর, ‘সংবিধানে এমন কিছু আছে কি না আমার জানা নেই। অ্যথলেটিকসের শিরিন আক্তারও তো অ্যাডহক কমিটিতে ছিলেন। কই সে তো অবসর নেয়নি। সম্ভবত সে এবারও দ্রুততম মানবী হয়েছেন।’

প্রখ্যাত আব্দুস সাদেকের সন্তান ইসতিয়াক সাদেক হয়েছেন বাহফে সাধারণ সম্পাদক। এজন্য অনেকেই মনে করছেন এবার বাহফের চেহারা পাল্টে যাবে, লিগ নিয়মিত হবে, ক্লাবগুলোর দুর্দশা দুর হবে, প্রাণ ফিরে পাবে বাহফে। আগের কমিটি যা পারেনি এবার তা করে দেখাবে। কমিটিতে থাকা রাহুল কান্তি, কোচ মাহবুব হারুন, মামুন উর রশিদ মনে করেন, ‘ভালো কিছুই হবে। এবার আশার প্রত্যাশাটা একটু বেশিই।’

মেয়েদের হকি নিয়ে নিরলস কাজ করা তারিকুজ্জামান নান্নুর জায়গা হয়নি নতুন অ্যাডহক কমিটিতে।