২২ বছরেই সাত ক্লাব!

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবলের ইতিহাসে এক ক্লাবের প্রতি আজীবন আনুগত্যের অসংখ্য উজ্জ্বল উদাহরণ রয়েছে। রায়ান গিগস, পাওলো মালদিনি, ফ্রান্সেসকো তত্তি কিংবা টনি অ্যাডামসের মতো কিংবদন্তিরা পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন একটি ক্লাবেই। বর্তমান সময়ে বুকায়ো সাকা বা ফিল ফোডেনও সেই পথেই হাঁটছেন।

তবে ফুটবলে আরেকটি ভিন্ন বাস্তবতাও রয়েছে। অল্প বয়সেই একের পর এক ক্লাব বদলে ‘যাযাবর’ ফুটবলারের তকমা পেয়ে যান অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সর্বশেষ উদাহরণ কলম্বিয়ার স্ট্রাইকার জন দুরান। মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি ক্যারিয়ারের সপ্তম ক্লাবে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

দুরানের মতো আরো কয়েকজন ফুটবলার আছেন, যাদের ক্যারিয়ার শুরুতেই ঘন ঘন ক্লাব পরিবর্তনের ঘটনা নজর কেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেডি আদুকে একসময় ‘পরবর্তী পেলে’ বলা হতো। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নাইকির সাথে চুক্তি, ১৪ বছরেই মেজর লিগ সকারে অভিষেক এবং ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক, সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো ছিল। কিন্তু ২২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ফ্রান্স, গ্রিস ও তুরস্ক মিলিয়ে আটটি ক্লাবের জার্সি গায়ে তোলেন। পরে আদু স্বীকার করেন, ১৮ বছর বয়সে বেনফিকায় যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তটি তার ক্যারিয়ারের জন্য সঠিক ছিল না।

ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক মাতেই ডেলাচ ২০১০ সালে চেলসিতে যোগ দিলেও বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন ধারে। ২২ বছর হওয়ার আগেই তিনি আটটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেললেও চেলসির মূল দলে একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচও খেলতে পারেননি।

ইংল্যান্ডের নাথানিয়েল চালোবাহ ২২ বছর বয়সে ওয়াটফোর্ডে স্থায়ীভাবে যোগ দেয়ার আগে ছয়টি ভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলেছিলেন। একইভাবে চেলসির আরেক প্রতিভা জশ ম্যাকইক্রানও ২২ বছর বয়সেই সপ্তম ক্লাব হিসেবে ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেন। পরে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারে স্থিতিশীলতা আনতেই চেলসি ছেড়েছিলেন।

সাবেক ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক রায়ান বার্ট্রান্ডও চেলসিতে থাকাকালীন একের পর এক ধারে খেলতে গিয়ে ২২ বছরেই ছয়টি ক্লাবের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে তিনি সাউদাম্পটনে স্থায়ীভাবে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ারে স্থিরতা খুঁজে পান।

ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার আলেন হালিলোভিচকে একসময় ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দিনামো জাগরেব থেকে বার্সেলোনা, এরপর হামবুর্গ ও ধারে স্পোর্টিং হিখোন ও লাস পালমাস ২২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ছয়টি ক্লাব ঘুরে এসেছিলেন তিনি। পরে এসি মিলানেও যোগ দেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক প্রতিভাবান মিডফিল্ডার রাভেল মরিসনের ক্যারিয়ারও শৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় বাধাগ্রস্ত হয়। ২৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি ছয়টি ক্লাবের হয়ে খেলেন এবং পরে স্বীকার করেন, ওয়েস্টহ্যামে কাটানো সময়ই ছিল তার সবচেয়ে উপভোগ্য অধ্যায়গুলোর একটি।

এই তালিকায় আছেন ফরাসি তারকা নিকোলা আনেলকাও। ২২ বছর বয়সেই তিনি পিএসজি, আর্সেনাল, রিয়াল মাদ্রিদ, আবার পিএসজি এবং পরে লিভারপুলে খেলেন। পুরো ক্যারিয়ারে সাতটি দেশে মোট ১২টি ক্লাবের জার্সি পরেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের দ্রুত ক্লাব পরিবর্তনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কারো ক্ষেত্রে এটি উন্নতির সুযোগ এনে দিলেও, অনেকের জন্য ঘন ঘন ক্লাব বদল প্রতিভার পূর্ণ বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।