রোনালদোর বিদায়ে ক্ষতির মুখে পড়বে পর্তুগিজ ফুটবল

Printed Edition
khela-3
রোনালদোর বিদায়ে ক্ষতির মুখে পড়বে পর্তুগিজ ফুটবল

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই শেষ ছিল ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এটাই শেষ বিশ্বকাপ- এমনটা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তবে লা রোজাদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এ-ও বলেছিলেন, এটা শেষ বিশ্বকাপ হলেও স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই শেষ নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের চূড়ান্ত দিনক্ষণও জানাননি তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ না জানালেও গুঞ্জন রয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশন্স লিগে ঘরের মাঠে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে এখন থেকেই রোনালদো-পরবর্তী সময়ের জন্য নতুন বাণিজ্যিক ও ব্র্যান্ড কৌশল হাতে নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

রোনালদোর বিদায়ের সাথে সাথে শুধু মাঠের এক কিংবদন্তির অধ্যায়েরই সমাপ্তি হবে না, বরং পর্তুগিজ ফুটবলের সামনে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সঙ্কট। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিপণন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার পর রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, সেটিই ছিল তার ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপ। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা এখনো দেননি, তবে আর কোনো বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে না- এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিজেই।

নতুন কোচ জর্জ হেসুসের অধীনে পর্তুগাল এখন নতুন যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে; কিন্তু ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে একজন স্ট্রাইকারের জায়গা পূরণ করা যতটা সহজ, রোনালদোর বৈশ্বিক প্রভাবের শূন্যতা পূরণ করা ততটাই কঠিন। পর্তুগালের হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় খেলেছেন রোনালদো। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। এ ছাড়া ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন।

রোনালদোর অবদান শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিপণন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সা বলেন, রোনালদোর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের মূল্য পর্তুগাল জাতীয় দলের চেয়েও অনেক বড়। তার ভাষায়, ‘হয়তো কথাটা কঠিন শোনাবে, কিন্তু ব্র্যান্ডের দিক থেকে রোনালদো পুরো পর্তুগাল জাতীয় দল এবং আরো অনেক জাতীয় দলের সম্মিলিত মূল্যকেও ছাড়িয়ে গেছেন।’

রোনালদোর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার কারণেই গত দুই দশকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। একইসাথে পর্তুগাল দলেরও সমর্থকে পরিণত হয়েছেন রোনালদোর কোটি কোটি অনুসারী। ফলে তার বিদায়ের পর এই দর্শকসংখ্যা এবং বাণিজ্যিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

নতুন কোচ হেসুস জানিয়েছেন, অবসরের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি রোনালদোর ইচ্ছা এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো পর্তুগিজ ফুটবল, জাতীয় দল এবং পুরো পর্তুগালের প্রতীক। ইতিহাসে তিনি সবসময় সেই মর্যাদাতেই থাকবেন। যতদিন তার জাতীয় দলের হয়ে খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকবে, ততদিন দলের জন্য যেটি সবচেয়ে ভালো মনে হবে, আমি সেটিই করব।’

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘনিয়ে এলেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রোনালদোর। আল নাসরের সাথে এখনো চুক্তিবদ্ধ তিনি এবং ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্যও সামনে রয়েছে পর্তুগালের মহাতারকার।